বেতন কম বাড়লেও সমস্যা নেই, কর্মীরা সুবিধা চান অবসর-বিমায়, বলছে নতুন সমীক্ষা

কর্মক্ষেত্রে শুধু মোটা অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং স্বাস্থ্যবিমা, অবসরকালীন সহায়তা এবং ছেলেমেয়েদের শিক্ষায় সাহায্যের মতো দীর্ঘমেয়াদী সুযোগ-সুবিধার উপরই বিশেষ জোর দিচ্ছেন কর্মীরা। সম্প্রতি স্টাফিং সলিউশনস এবং এইচআর পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা জিনিয়াস কনসাল্ট্যান্টস-এর এক সমীক্ষা রিপোর্টে এই নতুন প্রবণতা উঠে এসেছে। জীবনযাত্রার খরচ আকাশছোঁয়া হওয়া সত্ত্বেও, কর্মীরা কম বেতনেও রাজি হচ্ছেন যদি তাদের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ও মানসিক সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বদলে যাচ্ছে কর্মীদের অগ্রাধিকার
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৭৪ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, নিয়োগকর্তারা একবারে অনেকটা বেতন বাড়ানোর বদলে স্বাস্থ্যবিমা, অবসরকালীন সহায়তা এবং ছেলেমেয়েদের শিক্ষায় সাহায্য করলে তা তাদের কাছে বেশি কাঙ্ক্ষিত। সারা দেশের ১,১৩৯ জন কর্মীর উপর এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। এর থেকে স্পষ্ট, কর্মীদের প্রত্যাশা এখন কেবল নগদ বেতনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ ভবিষ্যতের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, ৩২ শতাংশ কর্মী মনে করেন তাদের বর্তমান নিয়োগকর্তারা যে সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছেন তা তাদের আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর পক্ষে যথেষ্ট। তবে, ৬১ শতাংশ কর্মী মনে করেন এই সুবিধাগুলো পর্যাপ্ত নয়। উদ্বেগের বিষয় হলো, ৫৪ শতাংশের বেশি কর্মী অভিযোগ করেছেন যে, সংস্থা তাদের মানসিক এবং আর্থিক সুস্বাস্থ্যের উপর গুরুত্ব দেয় না এবং এর জন্য কোনো আলাদা চেষ্টাও করে না।

জিনিয়াসের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ কর্মী চান তাদের নিয়োগকর্তারা তাদের আর্থিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগ দিক। তাদের কাছে বেতন সামান্য বৃদ্ধি পেলেও ক্ষতি নেই, যদি একটি সুস্থ কাজের পরিবেশ এবং নিয়োগকর্তাদের কর্মীবান্ধব মনোভাব নিশ্চিত করা হয়।

ফ্লেক্সিবল কাজ ও পারদর্শিতা-নির্ভর বোনাসের গুরুত্ব
সমীক্ষায় প্রায় ৮৪ শতাংশ কর্মী ফ্লেক্সিবল কাজের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের দাবি, বাড়ি এবং অফিস মিলিয়ে কাজ করা বা বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ পেলে অর্থ সঞ্চয় করা এবং তা অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা সহজ হবে। ফ্লেক্সিবল কাজের পরিবেশ এবং আর্থিক স্বচ্ছলতার মধ্যে যে পারস্পরিক যোগ রয়েছে, তা তাদের দাবি থেকে স্পষ্ট।

এছাড়াও, প্রায় ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন যে পারদর্শিতা-নির্ভর বোনাস এবং ইনসেনটিভ তাদের আর্থিক চিন্তা দূর করার পক্ষে সহায়ক হবে। সারা বছর কাজের পরে নিয়োগকর্তার তরফে পারদর্শিতাকে মাপকাঠি ধরে আর্থিক পুরস্কার কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের আর্থিক চাহিদার অনেকটাই পূরণ করবে বলে রিপোর্টে জানিয়েছে জিনিয়াস কনসাল্ট্যান্টস।

ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের রূপরেখা
জিনিয়াস কনসাল্ট্যান্টস-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর আর পি যাদব এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “এ যুগের কর্মীরা আর্থিক সহায়তার অন্য সংজ্ঞা নির্ধারণ করছেন। আর্থিক স্বচ্ছলতা আর শুধুমাত্র বেতনের উপর নির্ভরশীল নয়, এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও চাকরির নিরাপত্তা, ফ্লেক্সিবল কাজের সুযোগ এবং ইনসেনটিভও যোগ হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সংস্থাগুলিকে স্থিতিশীল, নিরাপদ ভবিষ্যতের কথা ভেবে নীতি তৈরি করতে হবে। কর্মীদের বিশ্বস্ততা, উৎপাদনশীলতা এবং বৃদ্ধিতে কৌশলগত বিনিয়োগ আখেরে সংস্থাগুলিকে লাভ দেবে।” এই সমীক্ষা রিপোর্ট কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার একটি নতুন চিত্র তুলে ধরেছে, যা নিয়োগকর্তাদের জন্য ভবিষ্যৎ কর্মনীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে।