ভোটের আগেই এনডিএ জোটে ভাঙন? প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক মাঝপথে ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন নীতীশ কুমার

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-এ ভাঙনের জল্পনা তীব্র হলো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকা এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক মাঝপথে ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

বৈঠকে কী ঘটেছিল?
আজ, রবিবার বিহার নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। এছাড়াও হাজির ছিলেন এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীরাও।

এনডিএ-র ঐক্যবদ্ধ ছবি তুলে ধরতে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের সঙ্গে এনডিএ শাসিত রাজ্যের কাজের সমন্বয় নিশ্চিত করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং জাতি ভিত্তিক জনসুমারি নিয়ে প্রস্তাবনা গ্রহণের মতো বিষয়গুলিও এই বৈঠকের আলোচ্য সূচিতে ছিল।

তবে, বৈঠকের মাঝপথেই বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার হঠাৎ বেরিয়ে চলে যান। তার এই আকস্মিক প্রস্থানের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট ছিল না, যা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

প্রস্থান ঘিরে জল্পনা ও ব্যাখ্যা
সূত্রের খবর অনুযায়ী, নীতীশ কুমার অসুস্থবোধ করছিলেন। তার ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানানো হয়েছে, তিনি আবারও বৈঠকে যোগ দেবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় উপস্থিত থাকবেন। নীতীশ কুমার বেরিয়ে যাওয়ার সময় দিল্লির অশোকা হোটেলে তাকে গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিতে আসেন বিজেপি নেতা বিনোদ তাওড়ে।

তবে, এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন গতকাল, অর্থাৎ শনিবার নীতি আয়োগের বৈঠকেও নীতীশ কুমার অনুপস্থিত ছিলেন। বিরোধী দলগুলো তার এই অনুপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস ও আরজেডি নেতারা তার অনুপস্থিতিকে “দুর্ভাগ্যজনক” বলে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং এর পেছনে “গভীর রাজনৈতিক বার্তা” থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত?
২০২৬ সালে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন আছে। এর আগে নীতীশ কুমারের এমন আচরণ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এটিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মনে করা হচ্ছে।

মনোরঞ্জন হাজরার গ্রেফতারি ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মনোরঞ্জন এনআইএ অফিসে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। এর আগে বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়া খুনের ঘটনায় নাম জড়ানোয় অধিকাংশ নেতা-কর্মী ঘরছাড়া বলেও তারা অভিযোগ করেছে।

নীতীশ কুমারের এই ধরনের আচরণ বিহারের এনডিএ জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। বিহার নির্বাচনের আগে এই ঘটনা জোটের স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিল।

Saheli Saha
  • Saheli Saha