দিল্লি বিপর্যস্ত রাতভর বৃষ্টিতে! ভেঙে পড়ল থানার ছাদ, ঘুমের মধ্যেই প্রাণ গেল সাব-ইন্সপেক্টরের

রাজধানী দিল্লি এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে রাতভর ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় জনজীবন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে গাজিয়াবাদের এক থানায় ছাদ ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় এক সাব-ইন্সপেক্টরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকালে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিমান পরিষেবাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

জানা যাচ্ছে, শনিবার রাতে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে গাজিয়াবাদের অঙ্কুর বিহারে সহকারী পুলিশ কমিশনারের অফিসের ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। নিহত সাব-ইন্সপেক্টরের নাম বীরেন্দ্র মিশ্র, বয়স ৫৮। বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টির কারণে তিনি রাতেই অফিসেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। গভীর রাতে তাঁর ঘুমন্ত অবস্থাতেই থানার ছাদ ভেঙে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই বীরেন্দ্র মিশ্রের মৃত্যু হয়। তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে।

শনিবার রাত থেকে দিল্লি এবং এনসিআর (National Capital Region)-এ ভারী বৃষ্টি শুরু হয়, যা রবিবার ভোর থেকে আরও বাড়ে। ভারী বৃষ্টির কারণে জাতীয় রাজধানী প্লাবিত হয়েছে। মিন্টো রোড, মোতি বাগ, ক্যান্টনমেন্ট এবং বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনাল সহ বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বহু গাছ উপড়ে পড়েছে, যা যানজট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

দিল্লি ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচলও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। একশোর বেশি বিমান ওঠানামায় দেরি হয়েছে এবং বহু বিমান বাতিল অথবা ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিমান সংস্থা ইন্ডিগো তাদের এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডেলে জানিয়েছে, “দিল্লিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিমান চলাচলে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটেছে। আবহাওয়ার কারণে বিমানবন্দরের আশপাশে যানজট হয়েছে এবং বিমান চলাচল প্রভাবিত হয়েছে।”

মৌসম ভবন শনিবারই পূর্বাভাস দিয়েছিল যে, রাত থেকে দিল্লিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে, সঙ্গে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে এবং শিলাবৃষ্টিরও সম্ভাবনা ছিল। সেই পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাত সাড়ে এগারোটা থেকে ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় ৮১.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক অতীতে দিল্লিতে এমন পরিমাণে বৃষ্টি হয়নি। আবহাওয়া দফতর আরও জানিয়েছে যে বৃষ্টি এখনও চলবে এবং বজ্রপাতেরও পূর্বাভাস রয়েছে।