মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল এনআইএ, ময়নার BJP কর্মী বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়ার খুনের রহস্যভেদ

দু’বছর আগে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার বাকচায় বিজেপি বুথ সভাপতি বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়াকে খুনের অভিযোগের ঘটনায় অবশেষে মূল অভিযুক্ত তথা তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি মনোরঞ্জন হাজরাকে গ্রেফতার করলো জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। শুক্রবার গভীর রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই গ্রেফতারি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস এটিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত এবং এনআইএ তদন্ত
২০২৩ সালের মে মাসে ময়নার বাকচায় বিজেপি কর্মী বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়াকে মারধর করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবার এবং বিজেপি নেতৃত্ব সরব হয়। বিজেপির দাবির প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট এই ঘটনার এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরপর থেকে এনআইএ তদন্ত শুরু করে এবং বহু সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
এই খুনের ঘটনায় মোট ৩৫ জন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। এর আগে এনআইএ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছিল। মামলাটি কলকাতা নগর দায়রা আদালতে গড়ায়, যেখানে অভিযুক্ত মনোরঞ্জন হাজরা, অঞ্চল এবং বুথস্তরের তিন নেতা বুদ্ধদেব মণ্ডল, কমল খুটিয়া এবং স্বপন ভৌমিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় গত ৩রা এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়। ২১শে এপ্রিল বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন জায়গায় অভিযুক্ত নেতা-কর্মীদের নামে নোটিশও সাঁটিয়ে দেয় এনআইএ। এই আবহে এক সপ্তাহ আগে এনআইএ মনোরঞ্জনের বড় ছেলেকে আটক করে, যদিও তার নাম কোনো এফআইআরে না থাকায় তাকে ছেড়ে দিতে হয়।
মনোরঞ্জন হাজরার গ্রেফতারি এবং তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
শুক্রবার মাঝরাতে এনআইএ বাকচা অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মনোরঞ্জন হাজরাকে গ্রেফতার করে। এই গ্রেফতারির সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মনোরঞ্জন হাজরা নিজেই এনআইএ অফিসে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা আরও দাবি করেছে, মনোরঞ্জন যদি মূল অভিযুক্ত হন এবং এনআইএ-র কাছে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ থাকে, তাহলে তাকে দিনের বেলাতেও গ্রেফতার করা যেত।
তৃণমূল কংগ্রেস এই গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে, বিশেষ করে যখন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করছে। বিজেপি কর্মীর খুনের ঘটনায় নাম জড়ানোয় অধিকাংশ তৃণমূল নেতা-কর্মী এখন ঘরছাড়া বলেও জানা গেছে।
বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়ার খুনের ঘটনায় নিহত বিজেপি কর্মীর বাড়ির সামনে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। এই গ্রেফতারি মামলার তদন্তে নতুন মোড় আনল এবং ময়নার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলল।