আমেরিকার বুকে ধৃত দুই পাকিস্তানি, রয়েছে কোন অভিযোগ? জানালেন FBI প্রধান কাশ প্যাটেল

ডালাস, টেক্সাস, ২৫শে মে, ২০২৫: পহেলগাঁও পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাতের আবহে এবার আমেরিকার মাটিতে গ্রেফতার হলেন দুই পাকিস্তানি নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতি, অর্থপাচার এবং চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনা সম্পর্কে মুখ খুলেছেন এফবিআই (Federal Bureau of Investigation)-এর ডিরেক্টর তথা ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান কাশ প্যাটেল।
গ্রেফতার ও অভিযোগের বিস্তারিত
গ্রেফতারকৃতরা হলেন ৩৯ বছর বয়সী আবদুল হাদি মুর্শিদ এবং ৩৫ বছর বয়সী মহম্মদ সালমান নাসির। তাদের বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতি, কয়েক স্তরীয় অভিবাসন জালিয়াতি, আর্থিক তছরুপ এবং চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। শুধু এই দুই ব্যক্তিই নয়, টেক্সাসের একটি আইন ফার্ম ‘রিলায়েবল ভেনচার্স’ (Reliable Ventures Inc.)-এর বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে আমেরিকার সঙ্গে প্রতারণাসহ একাধিক অভিযোগের ধারা (যেমন: conspiracy to defraud the United States, visa fraud, money laundering, and racketeering) লাগু করা হয়েছে। এছাড়া, আব্দুল হাদি মুর্শিদের বিরুদ্ধে আমেরিকায় অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগও রয়েছে।
এফবিআই ডিরেক্টর কাশ প্যাটেল (Kashyap Pramod “Kash” Patel) এক পোস্টে লেখেন, “এফবিআই ডালাস থেকে বড়সড় গ্রেফতারি। আবদুল হাদি মুর্শিদ এবং মুহাম্মদ সালমান নাসির, টেক্সাসের দুই ব্যক্তি, যারা জাল ভিসা আবেদন বিক্রি করে আমেরিকান অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করে একটি অপরাধমূলক ব্যবসা তদারকি এবং পরিচালনা করেছিল বলে অভিযোগ।” এই গ্রেফতারি নিয়ে এফবিআই-এর প্রশংসা করে কাশ প্যাটেল আরও লেখেন, “আমাদের এফবিআই টিম এবং তদন্তে অংশীদারদের শুভেচ্ছা।” উল্লেখ্য, কাশ প্যাটেল একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন অ্যাটর্নি এবং বর্তমানে এফবিআই-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০২৩ সাল থেকে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ অনুসারে, এই দুই ব্যক্তি এবং তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জাল ভিসা আবেদন দাখিল করে অর্থ উপার্জন করত। তারা মূলত, আদালতে যাদের ‘ভিসা প্রার্থী’ বলা হত, তাদের ভুয়া ভিসা আবেদন ফাইল করে অর্থ উপার্জন করত। এই ধরনের ভিসা আবেদনের সঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আমেরিকায় বসবাস জড়িয়ে রয়েছে। তারা মার্কিন সংবাদপত্রে ভুয়ো চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গেও নানান প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ। এই জালিয়াতির মাধ্যমে তারা EB-2, EB-3, এবং H-1B ভিসা প্রোগ্রামগুলোকে ব্যবহার করত।
গত ২৩শে মে মুর্শিদ ও নাসিরকে আদালতে তোলা হয়। তারা আপাতত হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের পরবর্তী শুনানি ৩০শে মে ধার্য করা হয়েছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরে ভিসা জালিয়াতি এবং অভিবাসন সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।