২২ দিন ধরে কতটা অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছিল? অবশেষে মুখ খুললেন BSF পূর্ণম সাউ

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের উত্তেজনার আবহে ভুল করে প্রতিবেশী দেশে চলে গিয়েছিলেন নদিয়ার রিষড়ার বাসিন্দা পূর্ণম সাউ। দীর্ঘ ২২ দিনের অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার পর অবশেষে শুক্রবার নিজের বাড়িতে ফিরেছেন তিনি। পরিবারে ফিরেছে স্বস্তি, কিন্তু পাকিস্তানে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অভিজ্ঞতা হয়তো তিনি কখনোই ভুলতে পারবেন না।
পূর্ণম সাউয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে তাঁর পরিবার রিষড়া থেকে পাঠানকোটে ছুটে গিয়েছিল। ছেলে ফিরবে কিনা, তা নিয়ে একরাশ আশঙ্কা নিয়ে দিন কাটাচ্ছিল তারা। অবশেষে সব উদ্বেগ কাটিয়ে পূর্ণম যখন স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করলেন, তখন চোখে মুখে এক অন্যরকম দৃঢ়তা।
২২ দিন পাকিস্তানে আটক থাকার পরও পূর্ণমের মুখে নেই এতটুকু ভয়ের ছাপ। সীমান্তে ফিরতে তাঁর কোনো দ্বিধা নেই। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট উত্তর দেন, “আমাদের যা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, তাতে ভয় পাওয়ার কোনো জায়গা নেই। যা কাজ দেওয়া হবে তাই করব। সীমান্তে তো প্রহরা দিতেই হবে।” তাঁর এই মন্তব্য পূর্ণমের অদম্য সাহস এবং দেশের প্রতি তাঁর কর্তব্যবোধের প্রতিফলন।
২২ দিন ধরে পাকিস্তানে তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, কতটা অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে – এই প্রশ্নগুলি সামনে এলে পূর্ণম জানান, প্রোটোকল অনুযায়ী তাঁর পক্ষে সে বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে তাঁর কথায় এক চাপা যন্ত্রণা ও প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, “যা হয়েছে, তা বলতে পারব না। সেটা শুধু আমিই জানি। পাকিস্তান যখন সামনে আসবে, তখন দেখব কী করা যায়। ওদের লোক এলে বুঝিয়ে দেব।”
পূর্ণম আরও জানান, তিনি ভেবেছিলেন হয়তো আর কখনো ভারতে ফেরা হবে না। জীবন ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। অবশেষে মা, বাবা, স্ত্রী-সন্তানের মুখ দেখতে পেয়ে তিনি বলেন, “সবার আশীর্বাদে আমি বাড়িতে ফিরেছি।”