পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আবারও কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি মোদীর, দেখেনিন প্রধানমন্ত্রীর ১০ মন্তব্য

পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আবারও কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ থাকলে) রাজস্থানের বিকানেরে ১০৩টি অমৃত ভারত স্টেশন উদ্বোধনের পর এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তিনি সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া নিয়ে পাকিস্তানকে তীব্র বার্তা দেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ভবিষ্যতে যেকোনো জঙ্গি হামলার জন্য পাকিস্তানকে চড়া মূল্য দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি জঙ্গি হামলার জন্য পাকিস্তান ও তার অর্থনীতিকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। ইসলামাবাদ-এর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ থাকবে বলেও প্রধানমন্ত্রী পুনরায় নিশ্চিত করেন।

মোদীর ভাষণের ১০টি মূল বার্তা:

১. পহেলগাঁও হামলা ও অদম্য সংকল্প: প্রধানমন্ত্রী পহেলগাঁওতে হওয়া জঙ্গি হামলার কথা স্মরণ করে বলেন, “সন্ত্রাসবাদীরা আমাদের বোনদের ধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে তাঁদের সিঁদুর মুছে দিয়েছে। পহেলগাঁওয়ে গুলি চালানো হয়েছিল। কিন্তু সেই গুলি ১৪০ কোটি দেশবাসীর হৃদয় বিদ্ধ করেছিল। এরপর আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সংকল্প নিয়েছিলাম যে আমরা সন্ত্রাসবাদীদের নির্মূল করব। আমরা তাদের কল্পনার চেয়েও বড় শাস্তি দেব। সন্ত্রাসবাদীদের মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হবে। আজ, আপনাদের আশীর্বাদ এবং দেশের সেনাবাহিনীর সাহসিকতায় আমরা সকলেই তা পূরণ করতে পেরেছি।”

২. সেনাবাহিনীকে খোলা হাত: মোদী জানান, “আমাদের সরকার তিন সেনাকে খোলা হাত দিয়েছিল। তিন সেনা মিলে ওদের নাস্তানাবুদ করেছে। তিন বাহিনী মিলে এমন একটি চক্রব্যূহ তৈরি করেছে যে পাকিস্তানকে নতজানু হতে বাধ্য করা হয়েছে।”

৩. ২২ মিনিটের জবাব: তিনি বালাকোট এয়ার স্ট্রাইকের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “২২ তারিখের হামলার জবাবে ২২ মিনিটে আমরা জঙ্গিদের ৯টি ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছি। ২২ তারিখ ধর্ম বেছে বেছে খুন করা হয়েছে। দেশের শত্রুরা দেখে নিয়েছে যখন সিঁদুর বারুদ হয়ে যায় তখন ফল কী হয়।”

৪. রাজস্থান ও বীরভূমি: প্রধানমন্ত্রী রাজস্থানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, “৫ বছর আগে যখন বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইক হয়েছিল, তখন আমার প্রথম জনসভা হয়েছিল রাজস্থানে। বীরভূমির এইটাই তপ। অপারেশন সিঁদুরের পরও আমার প্রথম জনসভা হল বীরভূমি রাজস্থানের বিকানেরে।”

৫. ‘আমি দেশকে মিটতে দেব না’: মোদী দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমি দেশকে মিটতে দেব না। দেশকে ঝুঁকতে দেব না। আমি দেশবাসীকে বলতে চাইছি যে যারা সিঁদুর মুছে দিতে বেরিয়েছিল, ওদের মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা সব হিসেব চুকিয়েছে। যারা ভাবছিল ভারত চুপ করে থাকবে, যারা তাদের অস্ত্র নিয়ে গর্ব করত, তারা আজ ধ্বংসস্তূপের স্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। আজ তারা ঘরে ঢুকে রয়েছে।”

৬. ‘ন্যায়ের নতুন রূপ: অপারেশন সিঁদুর’: প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা শোধ আর প্রতিশোধের খেলা নয়। এটি ন্যায়বিচারের একটি নতুন রূপ। এটি অপারেশন সিঁদুর। এটি কেবল আক্রোশ নয়। এটা ভারতের রুদ্র রূপ। এটা ভারতের নয়া স্বরূপ। প্রথমে ঘরে ঢুকে মেরেছিলাম, এখন একদম বুকে মেরেছি। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এটাই রীতি, এটাই নীতি। এটাই নতুন ভারত।”

৭. অপারেশন সিঁদুরের তিন সূত্র: মোদী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর তিনটি মূল সূত্রের কথা ব্যাখ্যা করেন। “প্রথম, জঙ্গি হামলা হলে কড়া জবাব দেবে ভারত। সময়, ঠিকানা আমাদের সেনারা ঠিক করবে। পরমাণু বোমার ব্ল্যাকমেলে ভারত ভয় পাবে না। দ্বিতীয়, আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসবাদীদের মদতদাতা সরকারকে একই দেখবে, আলাদা দেখবে না। পাকিস্তানের এই খেলা আর চলবে না।”

৮. পাকিস্তানের মুখোশ উন্মোচন: প্রধানমন্ত্রী জানান, “পুরো দুনিয়ায় পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দিতে আমাদের দেশের সাতটি ভিন্ন প্রতিনিধি দল পুরো বিশ্বে যাচ্ছেন। এতে দেশের সকল রাজনৈতিক দলের মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এখন পাকিস্তানের আসল চেহারা পুরো বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে। এবার পাকিস্তানের আসল চেহারা পুরো বিশ্বকে দেখানো হবে।”

৯. সোজাসুজি লড়াইয়ে অক্ষম পাকিস্তান, মোদীর ‘গরম রক্ত’: মোদী কটাক্ষ করে বলেন, “পাকিস্তান কোনওদিন ভারতের সঙ্গে সোজা লড়াইয়ে জিততে পারবে না। যখনই সোজা লড়াই হয়েছে তখনই ওদের মুখ লুকোতে হয়েছে। সেই কারণে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হাতিয়ার বানিয়েছে। পাকিস্তান সন্ত্রাস ছড়াত, নিরপরাধ মানুষদের খুন করত। স্বাধীনতার পর গত কয়েক দশক ধরে এটিই চলছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ভারতে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করত কিন্তু পাকিস্তান একটা জিনিস ভুলে গেছে। এখন ভারত মাতার দাস মোদী এখানে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মোদীর মাথা ঠান্ডা, ঠান্ডা রাখে। কিন্তু মোদীর রক্ত গরম। এখন মোদীর শরীরে গরম সিঁদুর বইছে। এখন প্রতিটি জঙ্গি হামলার জন্য পাকিস্তানকে চড়া মূল্য দিতে হবে। পাকিস্তানের অর্থ ব্যবস্থা সেই মূল্য চোকাবে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং পাকিস্তানের অর্থনীতিকে মূল্য চোকাতে হবে।”

১০. ‘পিওকে নিয়ে কথা, ভারতের জল পাবে না’: প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমি যখন দিল্লি থেকে এখানে আসি, তখন আমি বিকানেরের নল বিমানবন্দরে অবতরণ করি। রাজস্থানের এই এয়ার বেসকে টার্গেট করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু ওরা একটাও ক্ষতি করতে পারেনি। সীমান্তে ওপারে পাকিস্তানের রহিম ইয়ার খান এয়ার বেস রয়েছে। জানি না ওটা কবে খুলবে। আইসিইউ-তে চলে গিয়েছে। ভারতীয় সেনারা ধ্বংস করে দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রেডও হবে না, টকও হবে না। যদি কথা হয় তবে পিওকে নিয়ে কথা হবে। ভারতের অধিকারের জল পাকিস্তানকে দেওয়া হবে না। বিকশিত ভারতের জন্য সুরক্ষা ও সমৃদ্ধি জরুরি। এটাই নতুন ভারত।”

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত-পাক সংঘাত থামানোর দাবির প্রেক্ষিতে মোদীর ‘বিশ্বের কোনও শক্তি’ সম্পর্কিত মন্তব্যটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।