মুখে প্রস্রাব-ভাইরাস ইঞ্জেকশন দিত, গণধর্ষণের অভিযোগ BJP বিধায়ক সহ আরও চারজনের বিরুদ্ধে

কর্ণাটকের বিজেপি বিধায়ক মুনিরত্ন নাইডুর বিরুদ্ধে দলেরই এক মহিলা কর্মী গণধর্ষণ, মুখে প্রস্রাব এবং বিপজ্জনক ভাইরাস সংক্রমণের মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ করেছেন। বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, ৪০ বছর বয়সী ওই মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার (২১ মে, ২০২৫) আরএমসি ইয়ার্ড থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনা কর্ণাটকের রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগে, বিজেপি কর্মী বলে দাবি করা ওই মহিলা জানিয়েছেন যে ঘটনাটি ২০২৩ সালের ১১ জুন মাথিকেরের বিধায়কের কার্যালয়ে ঘটেছিল। তাঁর দাবি, বিধায়কের সহযোগীরা তাঁকে গাড়িতে করে অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর, বিধায়ক তাঁর দুই সহযোগীর সঙ্গে মিলে তাঁকে জোর করে বিবস্ত্র করেন। পালানোর চেষ্টা করলে তাঁর ছেলেকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এফআইআর অনুসারে, মুনিরত্ন নাইডু নাকি দুই ব্যক্তিকে মহিলাকে ধর্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মহিলা আরও অভিযোগ করেছেন যে বিধায়ক তাঁর মুখে প্রস্রাব করেছিলেন।

বিধায়কের বিরুদ্ধে ওই মহিলাকে একটি বিপজ্জনক ভাইরাসে সংক্রামিত করার অভিযোগও রয়েছে। মহিলাটি জানান, ঘটনার সময় একজন লোক ঘরে প্রবেশ করে এবং বিধায়ককে একটি সাদা বাক্স দেয়। সেই বাক্স থেকে একটি সিরিঞ্জ বের করে তাঁকে ইনজেকশন দেওয়া হয়। মহিলাটি জানান যে এই বছরের জানুয়ারিতে তাঁর একটি দুরারোগ্য ভাইরাস ধরা পড়ে, যার পরেই তিনি পুলিশের কাছে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের করেন।

এই ঘটনায় জড়িত বিধায়কের তিন সহযোগীর নাম এফআইআর-এ নথিভুক্ত করা হয়েছে, তবে চতুর্থ অভিযুক্তের পরিচয় এখনও অজানা। পুলিশের মতে, বিজেপি বিধায়ক এবং অন্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ধারা ৩৭৬ ডি (গণধর্ষণ) এবং ধারা ২৭০ (জীবনের জন্য বিপজ্জনক রোগের সংক্রমণ ছড়াতে পারে এমন মারাত্মক কাজ)।

চলচ্চিত্র প্রযোজক থেকে রাজনীতিতে আসা মুনিরত্ন নাইডু কর্ণাটকের একজন প্রভাবশালী বিজেপি বিধায়ক। তিনি অতীতে কর্ণাটক সরকারের একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীও ছিলেন এবং ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কর্ণাটকের পরিসংখ্যান মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এমন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং ঘটনার তদন্তের দিকে সকলের নজর রয়েছে।