বাংলায় আসছেন মোদী, উত্তরবঙ্গ থেকেই শুরু হবে বিজেপির নির্বাচনী প্রচার?

লোকসভা ভোটের উত্তাপের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্য রাজনীতিতে ফের তৎপরতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামী ২৯ মে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন। মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা এই খবর নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে যে, এই জনসভার মঞ্চ থেকেই ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিতে পারেন মোদী।

ঘটনাচক্রে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মুহূর্তে তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন। তাঁর সফরের মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর আগমনের খবরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ড পরিদর্শন করেন বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা। পরিদর্শক দলে ছিলেন সাংসদ মনোজ টিগ্গা, ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মন এবং কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামা। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর সভার প্রস্তুতি নিয়ে কানাঘুষো শুরু হয়, যা পরে সাংসদ নিজেই স্পষ্ট করেন।

সংবাদমাধ্যমকে মনোজ টিগ্গা জানান, সম্প্রতি সেনাবাহিনীর সাফল্যমণ্ডিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর জওয়ানদের সম্মান জানাতেই প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জনসভা করছেন। সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবেই তিনি আলিপুরদুয়ারে আসছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশের মতে, এই জনসভার আড়ালে মূল উদ্দেশ্য হল ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের প্রচারের আগাম সূচনা করা। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের প্রচারে শেষবার আলিপুরদুয়ারে এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। প্রায় এক দশক পর সেই একই জায়গা থেকে তিনি রাজ্যের আগামী নির্বাচনের কার্যত সুর বেঁধে দিতে চলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনের খবরে জেলার বিজেপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লার তৃণমূলে যোগদান উত্তরবঙ্গে গেরুয়া শিবিরকে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে ফেলেছিল। বার্লা দাবি করেছিলেন, তিনি উত্তরবঙ্গকে ‘দিদি’র হাতে তুলে দেবেন এবং আরও এক বিজেপি নেতা তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। এর পাশাপাশি, কিছুদিন আগে মাদারিহাট বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির জেতা আসন তৃণমূলের দখলে চলে যায়। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর আলিপুরদুয়ার সফর পদ্ম শিবিরকে নতুন করে অক্সিজেন জোগাবে এবং দলের কর্মীদের মনোবল অনেকটাই চাঙ্গা করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সব মিলিয়ে, ২৯ মের জনসভা রাজ্য রাজনীতির আগামী গতিপ্রকৃতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।