বিকালে মমতা, সকালে শুভেন্দু! রাজ্য-রাজনীতির দুই হেভিওয়েটের সফর ঘিরে সরগরম উত্তর

জন বার্লার তৃণমূলে যোগদান নিয়ে উত্তরের রাজনীতি এমনিতেই সরগরম। এরইমধ্যে আগামী সোমবার থেকে চারদিনের শিলিগুড়ি সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর শিলিগুড়িতে পৌঁছানোর আগেই একই দিনে সকালে বাগডোগরা পৌঁছে বানারহাটে পদযাত্রা ও সভা করবেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। জন বার্লার যোগদানের আবহের মধ্যেই রাজ্য-রাজনীতির দুই হেভিওয়েটের উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে পারদ চড়ছে উত্তরের রাজনীতিতে।

জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় সোমবার বিকালে শিলিগুড়ি পৌঁছেই একটি বাণিজ্য সম্মেলন করার কথা রয়েছে। রাতে উত্তরকন্যায় রাত্রিবাস করে পরদিন (মঙ্গলবার) কাছেই একটি মাঠে সরকারি সভায় যোগ দেবেন তিনি। বুধবার আবার উত্তরকন্যায় উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলাকে নিয়ে প্রশাসনিক সভা করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়ি এখন থেকেই সেজে উঠছে। শহরজুড়ে এবং মুখ্যমন্ত্রীর যাত্রাপথে পোস্টার, ব্যানার, ফ্লেক্সে ছয়লাপ।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী সোমবার শিলিগুড়িতে পৌঁছানোর আগেই সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে তিনি সরাসরি চলে যাবেন বানারহাটে, যা জন বার্লার ‘এলাকা’ হিসেবে পরিচিত। বানারহাটের বার্লার ঘাটিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাণিজ্য বৈঠকের আগেই একটি পদযাত্রা ও সভা করবেন বিরোধী দলনেতা। জন বার্লার দলবদলের জল্পনার মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারীর এই সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

রাজ্য-রাজনীতির এই দুই হেভিওয়েটের উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে ভোটের আগে এখন থেকেই ছাব্বিশের সলতেটা পাকিয়ে নিতে চাইছেন উত্তরের দুই শিবিরের নেতারাই। দুই দলের কাছেই উত্তরবঙ্গ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই সফর নিয়ে আশাবাদী শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তিনি বলেছেন, “কয়েক’টা নির্বাচন ও উপনির্বাচনে উত্তরবঙ্গে একাধিক সিট আমাদের হাতে এসেছে। তাই আগামী নির্বাচনে বেশি আসন আমাদের টার্গেট।” তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আসছেন। নানা কর্মসূচি আছে। আমরাও উজ্জীবিত হব। উত্তরবঙ্গে বিজেপি হারবে। আর বার্লা দলে আসায় চা বলয়ে আমাদের শক্তি আরও বাড়ল।”

তবে বিজেপির পক্ষ থেকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তিনি বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী হাওয়া বদল করতে আসছেন। বিরোধী দলনেতা মুখ্যমন্ত্রীকে আয়না দেখাবেন। তাই আসছেন। উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ফটো সেশন করবেন। এছাড়া কাজ নেই।” বার্লা ইস্যুতে আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূলের টার্গেট বৃদ্ধির স্বপ্ন অধরাই থাকবে। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে পরিস্থিতিটাই এমন হবে যে তৃণমূল হারবে। রাজ্যে আমাদের সরকার হবে। আর যে বার্লাকে নিয়ে তৃণমূল নাচছে উনি সুবিধার রাজনীতির পোস্টার বয়।”

সব মিলিয়ে, জন বার্লার দলবদলের জল্পনা এবং দুই প্রধান দলের শীর্ষ নেতার সফরের জেরে ছাব্বিশের ভোটের আগে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। দুই শিবিরই চাইছে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে রাজনৈতিক জমি ধরে রাখতে বা বাড়াতে।