কমছে বুস্টার ডোজের প্রতিরোধ ক্ষমতা! ফিরছে কোভিড আতঙ্ক? হংকং-সিঙ্গাপুরে বৃদ্ধি সংক্রমণের হার!

বিশ্বজুড়ে আবারও নতুন করে চোখ রাঙাতে শুরু করেছে কোভিড-১৯ ভাইরাস। সাম্প্রতিক সময়ে হংকং, সিঙ্গাপুর, চিন এবং তাইল্যান্ডের মতো কয়েকটি দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ভারতেও। মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বই শহরে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা সামান্য বৃদ্ধি পেতে শুরু করায় ২০১৯ সালের অতিমারীর ভয়াল স্মৃতি ফিরে ফিরে আসছে অনেকের মনে। আবারও কি ঘরবন্দি জীবন ফিরতে চলেছে – এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে দেশবাসীর মনে।
তবে এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কোভিড ড্যাশবোর্ড কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, মুম্বই শহরে সংক্রমণের হার কিছুটা বাড়লেও, সারা ভারতে বর্তমানে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ৯৩ জন। তাই জাতীয় পর্যায়ে পরিস্থিতি আপাতত উদ্বেগজনক নয় বলেই জানিয়েছে মন্ত্রক। বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (BMC) এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তাও এই মুহূর্তে কোভিড নিয়ে অযথা উদ্বেগের কারণ নেই বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার এবং জ্বর-সম্পর্কিত কোন শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের এক চিকিৎসক সম্প্রতি জানিয়েছেন, গত শনিবার (বা নির্দিষ্ট দিন) তাঁদের হাসপাতালে নতুন করে দুজন রোগীর শরীরে কোভিডের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন সম্প্রতি লন্ডন থেকে ফিরেছেন। তিনি প্রচণ্ড গলা ব্যথা এবং কাশি নিয়ে হাসপাতালে আসেন এবং কোভিড পরীক্ষায় তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তবে অপর করোনা আক্রান্ত রোগীর সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশ ভ্রমণের কোনো ইতিহাস নেই, যা থেকে বোঝা যায় স্থানীয় স্তরেও সংক্রমণ ঘটছে।
হংকং, সিঙ্গাপুর, চিন এবং তাইল্যান্ডে কেবল আক্রান্তের সংখ্যাই বাড়ছে না, মৃতের সংখ্যাও কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে খবর। এই দেশগুলিতে বাড়তে থাকা সংক্রমণ পরিস্থিতি ভারতের জন্য একটি ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে ভারতে ফেরা যাত্রীদের মাধ্যমে নতুন করে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই নতুন করে কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ বিশ্লেষণ করে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ হলো মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোভিডের বিরুদ্ধে নেওয়া বুস্টার ডোজের ক্ষমতাও ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে, যার ফলে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং নতুন করে সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ছে।
যদিও ভারতে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা এখনো অনেক কম এবং পরিস্থিতি জাতীয় স্তরে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবুও বিশ্বব্যাপী সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং দেশে সামান্য বৃদ্ধি নতুন করে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দিচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, ভিড় এড়িয়ে চলা এবং অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত medical advice নেওয়া এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য দফতর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা যায়।