OMG! একসঙ্গে বিড়ি খাওয়ার পর প্রেমিকার স্বামীর গলায় কোপ? পরকীয়ার ‘আক্রোশে’ খুন যুবক, ধৃত ১

ত্রিকোণ প্রেমের এক চরম করুণ পরিণতি দেখল কলকাতা সংলগ্ন লেদার কমপ্লেক্স থানা এলাকা। শনিবার সকালে রাজা মণ্ডল ওরফে বাবাই নামে প্রায় ৩০ বছর বয়সী এক যুবকের গলাকাটা দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ সন্ন্যাসী দলুই নামে স্থানীয় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, নিহত রাজার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবর্হিভূত সম্পর্ক ছিল ধৃত সন্ন্যাসীর, আর সেই সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং জটিলতার জেরেই এই খুন।

শনিবার সাত সকালে বানতলা চর্মনগরী লাগোয়া নলবনের ভেড়ি এলাকা থেকে রাজা মণ্ডলের গলাকাটা রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। দেহের পাশেই পড়েছিল মৃত যুবকের জুতো, একটি রুমাল, জলের বোতল এবং বিড়ির প্যাকেট। ঘটনার খবর পেয়ে লেদার কমপ্লেক্স থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। মৃতদেহ এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ হয় যে, কোনও পূর্বপরিচিতের হাতেই নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন রাজা।

হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে পুলিশ জোরদার তদন্ত শুরু করে। তারা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে এবং নিহত রাজা ও তার স্ত্রীর কল রেকর্ড পরীক্ষা করে। আর এই সূত্র ধরেই তদন্তকারীদের সামনে একটি ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে, যা হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রাথমিক ভাবে পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ধৃত সন্ন্যাসী দলুইয়ের সঙ্গে নিহত রাজার স্ত্রীর দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। তারা দুজনেই আগে কাঁটাতলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তবে বিয়ের পর স্বামী রাজার সঙ্গে রাজার স্ত্রী আনন্দপুরে চলে যান। কিন্তু সম্প্রতি জীবিকার টানে রাজা কাঁটাতলাতে একটি ভাতের হোটেলে কাজ শুরু করেন এবং স্ত্রীকে নিয়ে সেখানেই একটি ভাড়া বাড়িতে নতুন করে থাকতে শুরু করেন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই সূত্রেই ফের রাজার স্ত্রীর জীবনে সন্ন্যাসী দলুইয়ের প্রত্যাগমন ঘটে এবং তাদের পুরনো সম্পর্ক আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

পুলিশের অনুমান, স্ত্রীর এই বিবাহবর্হিভূত সম্পর্কের বিষয়টি রাজা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। এই নিয়ে রাজা এবং তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়শই তীব্র পারিবারিক অশান্তি হতো। এই অশান্তি চরমে পৌঁছলে সম্প্রতি রাজার স্ত্রী ফের কাঁটাতলা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যান। তদন্তকারীরা মনে করছেন, প্রেমিকার সঙ্গে দ্বিতীয়বারের এই বিচ্ছেদ এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন মেনে নিতে পারেনি সন্ন্যাসী দলুই।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, এই ঘটনার জেরেই সন্ন্যাসী দলুই রাজাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। কোনো কারণ দেখিয়ে সে রাজাকে একটি শুনশান এলাকায় ডাকে। সেখানে তারা একসঙ্গে বসে বিড়িও খায়। এরপরই সুযোগ বুঝে সন্ন্যাসী রাজাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে খুন করে বলে অনুমান করছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সন্ন্যাসী দলুইয়ের উপর পুলিশের সন্দেহ ছিল। তদন্তে ত্রিকোণ প্রেমের বিষয়টি উঠে আসার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ধৃত সন্ন্যাসী দলুইকে আজ আদালতে তোলা হবে। তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের সম্পূর্ণ চিত্র এবং ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন করার চেষ্টা করছে পুলিশ।