OMG! ঝোড়ো হাওয়ায় স্টেশনের ছাদ গেলো উড়ে, প্রবল বৃষ্টিতে দেওয়াল ধসে মৃত ৩

শনিবার বিকেলে দিল্লি-এনসিআর জুড়ে বয়ে যাওয়া প্রবল বৃষ্টিপাত এবং ঝড়ো হাওয়ার কারণে রাজধানীতে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দিল্লির নবী করিম এলাকার আরকাংশা রোডে একটি নির্মাণাধীন ভবনের দেওয়াল আচমকা ধসে পড়ে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তিন জন নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিন জন আহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুরের পর থেকে দিল্লি এবং সংলগ্ন গুরুগ্রাম, নয়ডা সহ একাধিক অঞ্চলে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টিপাত এবং তার সঙ্গে ছিল তীব্র ঝড়ো হাওয়া। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জেরেই নবী করিম এলাকার আরকাংশা রোডে একটি নির্মাণাধীন ভবনের একাংশের দেওয়াল ভেঙে পড়ে। আচমকা এই ধসের সময় সেখানে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।

দিল্লি ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উদ্ধার কাজ শুরু করে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মোট ছয় জন শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তাদের দ্রুততার সঙ্গে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত তিন জন শ্রমিকের মধ্যে দু জন বিহারের মুঙ্গের জেলার বাসিন্দা ছিলেন— ৬৫ বছর বয়সী প্রভু এবং ৪০ বছর বয়সী নিরঞ্জন। তৃতীয় জন উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী রোশন। আহত তিনজনের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় বিধায়ক ইমরান হুসেন দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক আখ্যা দিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি প্রশাসনের কাছে এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলেন।

এদিকে, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-এর একটি দল প্রশিক্ষিত কুকুর স্কোয়াড নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ চাপা পড়ে আছেন কিনা, তা নিশ্চিত করার জন্য তল্লাশি চালায়। তল্লাশির পর তারা নিশ্চিত করেছে যে আর কেউ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে নেই। পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে।

এই দেওয়াল ধসের ঘটনার পাশাপাশি, শনিবারের ঝড়বৃষ্টিতে দিল্লির বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিউ অশোক নগর RRTS স্টেশনের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। শহরের বিভিন্ন অংশে প্রবল হাওয়ায় অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়েছে, যার ফলে রাস্তাঘাটে যান চলাচল ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শনিবারের বৃষ্টিপাত ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে মে মাসে হওয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দিল্লির সফদরজং সেন্টারে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই সময়ের জন্য অস্বাভাবিক।