বিশেষ: পুরনো Salary Account বন্ধ না করলে পড়বেন সমস্যায়, জেনেনিয়ে থাকুন সতর্ক

যদি সম্প্রতি আপনি চাকরি পরিবর্তন করে থাকেন এবং আপনার পুরনো বেতন অ্যাকাউন্টটি এখনও বন্ধ না করে থাকেন, তাহলে অবিলম্বে সাবধান হন! এটি আপনার জন্য একটি গুরুতর আর্থিক সমস্যার কারণ হতে পারে। ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বেতন জমা না হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে তৈরি হতে পারে নানা জটিলতা। আপনার পুরনো বেতন অ্যাকাউন্ট বন্ধ না করার পেছনে কী কী সমস্যা লুকিয়ে আছে, জেনে নিন বিস্তারিত।

সাধারণ সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে পরিবর্তন:

ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী, আপনার বেতন অ্যাকাউন্টে যদি টানা দুই থেকে তিন মাস ধরে কোনো বেতন জমা না হয়, তাহলে বেশিরভাগ ব্যাঙ্ক এটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নিয়মিত সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে (Regular Savings Account) রূপান্তরিত করে দেয়। মনে রাখবেন, বেতন অ্যাকাউন্টগুলো প্রায়শই কোম্পানি ও ব্যাঙ্কের চুক্তির ভিত্তিতে জিরো ব্যালেন্স বা কম ব্যালেন্স রাখার সুবিধা সহ খোলা হয়। কিন্তু যখন আপনার বেতন জমা হওয়া বন্ধ হয়ে যায়, তখন সেই বিশেষ সুবিধাগুলি আর থাকে না। অ্যাকাউন্ট সাধারণ সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে রূপান্তরিত হওয়ার পরই শুরু হয় বিভিন্ন চার্জের হিসাব।

ন্যূনতম ব্যালেন্স না রাখলে জরিমানা:

আপনার বেতন অ্যাকাউন্টটি যখন একটি সাধারণ সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে রূপান্তরিত হয়ে যায়, তখন তাতে ন্যূনতম গড় ব্যালেন্স (Minimum Average Balance বা MAB) বজায় রাখার শর্ত প্রযোজ্য হয়। যদি আপনি আপনার অ্যাকাউন্টে এই নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যালেন্স বজায় রাখতে ব্যর্থ হন, তাহলে ব্যাঙ্ক প্রতি মাসে বা ত্রৈমাসিকে আপনার থেকে জরিমানা কাটতে শুরু করবে। এই জরিমানার পরিমাণ অবশ্য ব্যাঙ্ক এবং আপনার শাখার অবস্থান (শহুরে বা গ্রামীণ) অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

বার্ষিক ফি এবং এসএমএস চার্জ:

বেতন অ্যাকাউন্টে ডেবিট কার্ডের বার্ষিক ফি মওকুফ বা তাতে ছাড়ের সুবিধা প্রায়শই থাকে। কিন্তু অ্যাকাউন্টটি সাধারণ সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে রূপান্তরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই সুবিধা বন্ধ হয়ে যায় এবং আপনাকে বার্ষিক ফি বাবদ সম্পূর্ণ চার্জ দিতে হয়। এছাড়াও, বেতন অ্যাকাউন্টে সাধারণত বিনামূল্যে পাওয়া এসএমএস অ্যালার্টের মতো পরিষেবাগুলির জন্যও তখন থেকে চার্জ ধার্য করা হতে পারে।

লেনদেন না থাকলে অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয়:

যদি আপনি এক থেকে দুই বছর ধরে আপনার অ্যাকাউন্টে কোনো ধরনের লেনদেন (টাকা জমা বা তোলা) না করেন, তাহলে ব্যাঙ্ক সেই অ্যাকাউন্টটিকে ‘অকার্যকর’ বা ‘নিষ্ক্রিয়’ (Inoperative/Dormant) হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। একবার অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে, সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা বা সেটিকে পুনরায় সক্রিয় করতে অনেক সময় এবং ঝক্কি পোহাতে হয়। অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করার জন্য আপনাকে ব্যাঙ্কের চাহিদা অনুযায়ী নতুন করে কেওয়াইসি (KYC) অর্থাৎ আপনার পরিচয় ও ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হতে পারে।

ক্রেডিট স্কোরের উপর প্রভাব:

পুরনো বেতন অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ব্যালেন্স বজায় না রাখার কারণে যদি বারবার ব্যাঙ্ক চার্জ কাটতে থাকে এবং অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স নেগেটিভ হয়ে যায়, তাহলে এর একটি মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব আপনার ক্রেডিট স্কোরের উপর পড়তে পারে। ব্যাঙ্ক এটিকে আপনার ‘পাওনা পরিশোধ না করা’ হিসেবে ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট করতে পারে, যা ভবিষ্যতে আপনার জন্য ঋণ নেওয়া বা অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পেতে বড় বাধা তৈরি করতে পারে।

প্রয়োজন না হলে এখনই বন্ধ করুন:

সুতরাং, যদি আপনার এমন একটি পুরনো বেতন অ্যাকাউন্ট থেকে থাকে যার আর প্রয়োজন নেই, তাহলে সবচেয়ে ভালো এবং সুরক্ষিত উপায় হলো ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে একটি ফর্ম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া। যদি কোনো বিশেষ কারণে অ্যাকাউন্টটি চালু রাখতেই হয়, তাহলে অবশ্যই তাতে ব্যাঙ্কের নির্দেশিকা অনুযায়ী ন্যূনতম ব্যালেন্স বজায় রাখুন। এছাড়াও, অ্যাকাউন্টটিকে নিষ্ক্রিয় হওয়া থেকে বাঁচাতে কিছু সময় অন্তর ছোট ছোট লেনদেন করে সেটিকে সক্রিয় রাখুন।

কী করবেন আর কী করবেন না:

আপনার পুরনো বেতন অ্যাকাউন্টটি আপনার কাছে হয়তো একটি ছোটখাটো বিষয় মনে হতে পারে, কিন্তু এটিকে উপেক্ষা করা আপনার জন্য বেশ ব্যয়বহুল প্রমাণিত হতে পারে। এটি শুধু আপনার আর্থিক ক্ষতিই করবে না, বরং আপনাকে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা এবং মানসিক চাপও দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বুদ্ধিমানের কাজ হলো আপনার টাকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্যা এড়ানো।

(বিঃদ্রঃ- খবরটি সাধারণ তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনার ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।)