তীব্র গরমের সঙ্গে অনিয়মিত বিদ্যুৎ! নাজেহাল সিঙ্গুরের বিস্তীর্ণ এলাকা, তারপর যা হলো? ছুটে এল পুলিশও

রাজ্যজুড়ে যখন তীব্র গরমের দাপটে মানুষ নাজেহাল, ঠিক সেই সময় অনিয়মিত বিদ্যুৎ পরিষেবা হুগলির সিঙ্গুরের বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দাদের জীবন আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। শনিবার রাত থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় দমবন্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। রবিবার সকালে বিদ্যুৎ দফতরের একটি গাড়ি এলাকায় পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। তারা গাড়ি আটকে রেখে তুমুল বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটাই তেতে ওঠে যে তা সামাল দিতে সিঙ্গুর থানা থেকে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যেতে হয় পুলিশকে।
রবিবার সকালে সিঙ্গুরের বাসুবাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বেলিকুল এলাকায় এই উত্তেজনা ছড়ায়। জানা গেছে, বাসুবাটি সহ কাঁসারিপুকুর, শ্রীরামপুর, লক্ষ্মণপুর, রাজারামবাটি, কোলেপাড়া-সহ এই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বিস্তীর্ণ এলাকায় শনিবার রাত থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তীব্র গরমে সারা রাত বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে গ্রামবাসীদের।
রবিবার সকালে বিদ্যুৎ দফতরের একটি গাড়ি গ্রামে ঢুকতেই বিদ্যুৎহীনতার যন্ত্রণা ও পুঞ্জীভূত ক্ষোভ একত্রিত হয়ে সামনে আসে। গ্রামবাসীরা সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটিকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তীব্র বাদানুবাদ এবং উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের জেরে পরিস্থিতি ক্রমশই তেতে ওঠে। খবর পেয়ে দ্রুত সিঙ্গুর থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই অনিয়মিত বিদ্যুতের সমস্যা আজকের নয়, গত কয়েক বছর ধরেই এই এলাকায় চলছে। বিশেষ করে গরম পড়লেই বিদ্যুতের সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। মাঝেমধ্যেই বিদ্যুৎ চলে যায় এবং এক-দু’দিন সেই অবস্থায় কাটে, তার পর ফের বিদ্যুৎ আসে। এমন অনিয়মিত এবং দুর্বল বিদ্যুৎ পরিষেবার ফলে গ্রামের বাসিন্দাদের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির মুখেও পড়তে হচ্ছে। তারা জানিয়েছেন, দিনের মধ্যে একাধিক বার লো ভোল্টেজ থাকে এবং ভোল্টেজের ওঠানামার জেরে বাড়িতে থাকা ফ্রিজ, টিভি সহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ক্ষতি হচ্ছে। সঠিক বিদ্যুৎ পরিষেবা মিলছে না বলে একাধিক বার বিদ্যুৎ দফতরের সিঙ্গুর অফিসে লিখিত ও মৌখিক আবেদনও জানান স্থানীয় বাসিন্দারা, কিন্তু তার পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
গতকাল শনিবার রাত থেকে ফের বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় রবিবার সকালে তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। বিক্ষোভ চলাকালীন গ্রামবাসীরা তাদের দাবিদাওয়া স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তারা জানান, বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং এখন থেকে সঠিক ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা মিলবে – এমন সুনিশ্চিত আশ্বাস দিতে হবে। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে এলে, তাদের সামনেও নিজেদের ক্ষোভ ও দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা উগরে দেন গ্রামবাসীরা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্যে তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ঘোষণা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। তাই চাহিদার জোগান দিতে হলে বিদ্যুতের উৎপাদনও বাড়ানো প্রয়োজন। বিদ্যুতের চাহিদার জোগান দিতে রাজ্য সরকার নয়া নীতিও গ্রহণ করতে চলেছে এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনেও জোর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত সমস্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই সিঙ্গুরের এই বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুতের এমন বেহাল দশার মূল কারণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে।