বলিউডের অন্দরে কালো জাদুর গুঞ্জন, ‘সম্পর্ক বাঁচাতেও করেছেন ব্ল্যাক ম্যাজিক’, কাদের উপরে রয়েছে এই অভিযোগ?

রুপালি পর্দার ঝলমলে জগতের বাইরে বলিউড তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ চিরন্তন। তবে বলিউডের অন্দরমহলে এমন কিছু চাঞ্চল্যকর কাহিনি এবং গুঞ্জন প্রচলিত রয়েছে, যা শুনলে অনেকেই হয়তো চমকে যেতে পারেন। নিজেদের কেরিয়ার বা সম্পর্ক ঠিক রাখতে অথবা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেতে কিছু অভিনেত্রী নাকি কালো জাদুর (ব্ল্যাক ম্যাজিক) সাহায্য নিয়েছেন—এমন অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।

বলিউডের অন্যতম বিতর্কিত অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের প্রাক্তন প্রেমিক অধ্যয়ন সুমন একবার প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন যে, কঙ্গনা নাকি তাঁর উপর কালো জাদু প্রয়োগ করেছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, তাঁদের সম্পর্কের সময় কঙ্গনা তন্ত্র-মন্ত্রের চর্চায় যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে এই অভিযোগের জবাবে কঙ্গনা রসিকতার সুরে বলেছিলেন যে, ডাইনি বিদ্যা একটি বহু পুরনো প্রথা, যা পরোক্ষভাবে এই ধরনের চর্চার প্রতি তাঁর মনোভাবকেই ইঙ্গিত করে।

সম্প্রতি অভিনেত্রী কিয়ারা আডবাণীর বিরুদ্ধেও কালো জাদু করার মতো অবাক করা অভিযোগ উঠেছিল। সিদ্ধার্থ মলহোত্রের কিছু ভক্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন দাবি করেছিলেন যে, কিয়ারা নাকি সিদ্ধার্থের উপর কালো জাদু করেছেন, যার ফলে তিনি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ব্যবহার করতে পারছেন না। যদিও এই ধরনের আজগুবি এবং ভিত্তিহীন গুজবকে কিয়ারা বা সিদ্ধার্থ— কেউই গুরুত্ব দেননি এবং বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়েছেন।

অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের রহস্যজনক মৃত্যুর পর রিয়া চক্রবর্তীকে ঘিরে তৈরি হয় নানা বিতর্ক। আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগের পাশাপাশি রিয়ার বিরুদ্ধে সুশান্তের উপর কালো জাদু প্রয়োগ করার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগও উঠেছিল। এই প্রসঙ্গে রিয়া পরে বলেছিলেন যে, তিনি মাঝেমধ্যে মজা করে বলেন যে তাঁর মধ্যে নাকি অলৌকিক শক্তি রয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, কোনও ঘরে ঢুকলেই মানুষ দু’ভাগে ভাগ হয়ে যায়—একদল তাঁকে ডাইনি বলে, অন্যদল তাঁকে সাহসী ও শক্তিশালী নারী হিসেবে দেখে, এবং তিনি নাকি সহজেই বুঝে ফেলতে পারেন কে কী ভাবছে।

টেলিভিশন জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কা ত্রিপাঠীও একবার এই ধরনের গুঞ্জনের শিরোনামে এসেছিলেন। অভিনেতা শরদ মলহোত্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর তিনি নাকি মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছিলেন এবং সম্পর্কটি আবার জোড়া লাগানোর জন্য বিভিন্ন চেষ্টা করেছিলেন। শোনা যায়, সেই সময় নাকি তিনি কালো জাদুর সাহায্য নেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন, কিন্তু বহু চেষ্টা সত্ত্বেও সেই সম্পর্ক আর আগের অবস্থায় ফেরেনি।

যদিও এই অভিযোগগুলোর অধিকাংশই গুঞ্জন বা বিতর্কের অংশ এবং সেগুলির কোনও প্রমাণিত ভিত্তি নেই (পায়েল রোহতগির নিজের স্বীকারোক্তি ছাড়া), তবে এই ধরনের কাহিনি বলিউডের চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্য এক দিককে তুলে ধরে, যা সত্যিই বিস্ময়কর।