ভারতীয় সেনাকে সম্মান জানাতে জেলায় জেলায় পথে নামছে TMC, বাংলাজুড়ে মিছিলের ডাক

ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা শহিদ জওয়ানদের প্রতি সম্মান ও সংহতি জানাতে এবার রাজ্যজুড়ে মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে আগামী শনি ও রবিবার (দুপুর ৩টে থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত) এই বিশেষ কর্মসূচি পালিত হবে।

এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে। নবান্নে আয়োজিত ওই বৈঠকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বীরত্ব, সাফল্য ও আত্মত্যাগ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয় এবং শহিদ জওয়ানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “আমরা আমাদের সেনাবাহিনীকে সলিডারিটি জানাচ্ছি এবং তাদের অবদানের জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। যারা দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন, সেই সকল শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের তর্পণের জন্য মন্ত্রিসভায় একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে, যা পাশ হয়েছে।”

একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ নিয়ে কোনও প্রশ্ন না করার অনুরোধ জানিয়ে স্পষ্ট করেন যে, এই বিষয়টি নিয়ে অনেকে রাজনীতি করতে আগ্রহী হলেও তৃণমূল কংগ্রেস কোনো রাজনীতিতে জড়াতে চায় না। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি বা দলের কোনো নেতা-মন্ত্রী এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তবে, যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করাকে তিনি দলের নৈতিক কর্তব্য বলে উল্লেখ করেন।

এই কর্তব্যবোধ থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস ভারতীয় সেনাকে অভিনন্দন জানিয়ে আগামী শনি ও রবিবার রাজ্যজুড়ে মিছিল করবে। এই মিছিলের মাধ্যমে দুটি প্রধান বিষয়কে তুলে ধরা হবে – প্রথমত, ভারতীয় জওয়ানদের কৃতিত্ব ও সাফল্য এবং দ্বিতীয়ত, দেশমাতার সুরক্ষায় তাদের লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। পাশাপাশি, যারা শহিদ হয়েছেন, সেই বীরদের পরিবারের প্রতি এই মিছিল থেকে সমবেদনাও জানানো হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই কর্মসূচি কলকাতার প্রতিটি ওয়ার্ডে এবং রাজ্যের প্রতিটি জেলা ও ব্লকে আয়োজিত হবে।

উল্লেখ্য, গতকাল বিএসএফ জওয়ান পূর্ণম কুমার সাউয়ের পাকিস্তান থেকে মুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, হুগলির বাসিন্দা ওই জওয়ানকে পাক রেঞ্জার্সরা সীমান্ত থেকে আটক করেছিল। তিনি জওয়ানের স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি ও বিএসএফের ডিজির সঙ্গেও নিরবচ্ছিন্নভাবে যোগাযোগ রেখেছিলেন। তারা জওয়ানের স্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছিলেন। পূর্ণমের মুক্তি পাওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত বলেও জানান।

সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি সেনাবাহিনীর প্রতি সম্মান জানাতে এবং শহিদদের স্মরণ করতে রাজ্যজুড়ে পথে নামার এই কৌশল গ্রহণ করেছে।