“মাধ্যমিকে নবম, উচ্চমাধ্যমিকে দ্বিতীয়”-IIT-তে পড়ে গবেষক হতে চায় কোচবিহারের তুষার

সদ্য প্রকাশিত উচ্চমাধ্যমিক ২০২৫-এর ফলাফলে ৪৯৬ নম্বর পেয়ে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে কোচবিহারের বক্সিরহাট হাইস্কুলের ছাত্র তুষার দেবনাথ। তার এই দুর্দান্ত ফল তার কাছে নিজেই কিছুটা অপ্রত্যাশিত বলে জানিয়েছে এই কৃতী ছাত্র। ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটিতে ভর্তি হতে চায় সে।
তুষারদের একটি একান্নবর্তী পরিবার। বাড়িতে বাবা, মা, দাদা, বড়মা এবং জেঠু রয়েছেন। তুষার জানায়, তার এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার পরিবারের। পরিবারের প্রতিটি মানুষের নিরন্তর অনুপ্রেরণা এবং সবসময় পাশে থাকাটাই ছিল তার সাফল্যের চাবিকাঠি। একই সঙ্গে, স্কুলের শিক্ষকদের অবদানও যে অনস্বীকার্য, সে কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে জানিয়েছে তুষার।
তুষারের বাবা সব্জি বিক্রি করেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা স্বচ্ছল নয়। এই কঠিন পথ যে যথেষ্ট চড়াই-উতরাইয়ের ছিল, সে কথা অকপটে স্বীকার করে তুষার। তবে অভাবের মধ্যেও সে তার লক্ষ্য থেকে এক বিন্দুও সরে আসেনি। পড়াশোনার জন্য প্রতিটা বিষয়েরই গৃহশিক্ষক ছিল তুষারের। স্কুল এবং গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ার পাশাপাশি বাড়িতে প্রতিদিন ৪-৫ ঘণ্টা মন দিয়ে পড়াশোনা করেছে সে। পড়াশোনার বাইরে ক্রিকেট খেলতেও ভালোবাসে এই কিশোর।
এর আগে মাধ্যমিক পরীক্ষাতেও রাজ্যে নবম স্থান অধিকার করেছিল তুষার দেবনাথ। ধারাবাহিক ভালো ফলের জন্য উচ্চমাধ্যমিকেও ভালো ফলের প্রত্যাশা তার ছিলই। তবে একেবারে দ্বিতীয় স্থানে তার নাম উঠে আসবে, এতটা সে নিজেও হয়তো ভাবেনি।
এখন তার মূল লক্ষ্য হলো আইআইটি-তে ভর্তির জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া। এই প্রবেশিকা পরীক্ষায় সফল হয়ে উচ্চশিক্ষার পথে হেঁটে ভবিষ্যতে একজন প্রতিষ্ঠিত গবেষক হতে চায় বক্সিরহাটের এই লড়াকু কিশোর।
অভাবের সংসারে থেকেও অদম্য মানসিকতা, কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের অকৃত্রিম সমর্থনে তুষার দেবনাথ যে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছে, তা রাজ্যের বহু ছাত্রছাত্রীকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে। তার আইআইটি-তে ভর্তি হওয়ার এবং গবেষক হওয়ার স্বপ্নপূরণ হোক, এই কামনা।