“৫০০ তে ৪৯৪ পেয়ে”-উচ্চমাধ্যমিকে ৪র্থ সৃজিতা, ফাঁস করল সাফল্যের রহস্য, জানালো জীবনের লক্ষ্য

সদ্য প্রকাশিত উচ্চমাধ্যমিক ২০২৫-এর ফলাফলে রাজ্যে চতুর্থ স্থান অধিকার করে নজর কেড়েছে বাঁকুড়ার সোনামুখী গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী সৃজিতা ঘোষাল। ৫০০ নম্বরের পরীক্ষায় তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৪, যা শতাংশের নিরিখে ৯৮.৮। এই অসাধারণ ফলাফলের পাশাপাশি আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, সৃজিতা এই বছর উচ্চমাধ্যমিকে মেয়েদের মধ্যে রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করেছে।
বুধবার দুপুরে নিজের রেজাল্ট শোনার পর খানিকটা অবাকই হয়েছে সৃজিতা। ভালো রেজাল্ট হবে আশা করলেও, রাজ্যের মধ্যে একেবারে চতুর্থ স্থানে নিজের নাম থাকবে, তা সে স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি বলে জানিয়েছে। সৃজিতার একটি বিশেষ দিক হলো, সারাদিন বইয়ে মুখ গুঁজে বসে থাকা তার একেবারেই অপছন্দ। সে জানায়, পড়াশোনার কোনো নির্দিষ্ট ধরাবাঁধা সময় তার ছিল না, বরং যখনই সুযোগ বা সময় পেয়েছে, তখনই মন দিয়ে পড়তে বসে পড়েছে।
তার পড়ার কৌশল সম্পর্কে সৃজিতা বলে, “কোচিংয়ের স্যররা যেভাবে আমাকে গাইড করেছেন, আমি সেভাবেই পড়াশোনা করেছি।” কোনো বিষয়ে বুঝতে অসুবিধে হলে প্রথমেই শিক্ষকের উপর নির্ভর না করে বাড়িতে এসে নিজেই সেটা সমাধান করার চেষ্টা করত সে। এই স্বতঃপ্রণোদিত অভ্যাস তাকে বিষয়গুলি আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে। সৃজিতা জানিয়েছে, তার এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বাবা-মায়ের নিরন্তর সমর্থন এবং অবদানের জন্য। মেয়ের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে তার বাবা-মাও অত্যন্ত আনন্দিত।
পড়াশোনার বাইরে অবসর সময়ে ছবি আঁকতে ভালোবাসে সৃজিতা। কিন্তু গত দু’বছরে উচ্চমাধ্যমিকের প্রস্তুতির চাপে সেই শখকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রাখতে হয়েছে বলে আক্ষেপের সুরে জানায় এই কৃতী ছাত্রী। ভবিষ্যতে তার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ার ইচ্ছে রয়েছে। এখন সেই লক্ষ্যের দিকেই এগিয়ে যেতে চায় সে।
ধরাবাঁধা রুটিন না মেনেও শুধু সময়কে কাজে লাগিয়ে এবং নিজের চেষ্টায় ভরসা রেখে সৃজিতা ঘোষাল যে সাফল্য পেয়েছে, তা প্রমাণ করে যে নিয়মিত এবং মন দিয়ে পড়লে ঠিক সময়েই সেরা ফল করা সম্ভব। রাজ্যের মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে সে বহু ছাত্রীকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তার ভবিষ্যৎ ইঞ্জিনিয়ারিং কেরিয়ার এবং অন্যান্য স্বপ্নপূরণের জন্য রইল অনেক শুভকামনা।