জঙ্গি ফান্ডে বাংলার যোগ?-এক ব্যক্তির লেনদেনের উপরে কড়া নজর গোয়েন্দাদের

পাকিস্তানের মদতপুষ্ট বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন দেশ ও বিদেশে ছড়িয়ে থাকা এক বিশাল হাওয়ালা র‍্যাকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার ফান্ডিং পাচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা আগেই জানতে পেরেছিলেন। এই ‘টেরর ফান্ডিং নেটওয়ার্ক’টিকে সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক এবং গোয়েন্দারা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। এই আবহে এবার সামনে এসেছে জঙ্গিদের এই হাওয়ালা ফান্ডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত অন্তত ৩৬ জন সন্দেহভাজন ভারতীয়র চাঞ্চল্যকর ভূমিকা।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলো আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ হাওয়ালা চক্র ব্যবহার করে তাদের কার্যকলাপের জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ‘টেরর ফান্ডিং নেটওয়ার্ক’ সম্পর্কে অবহিত ছিল এবং এটি ভেঙে ফেলার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছিল। এই প্রেক্ষাপটেই একটি নতুন এবং উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, জঙ্গিদের আন্তর্জাতিক হাওয়ালা সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অন্তত ৩৬ জন সন্দেহভাজন ভারতীয়র ভূমিকা গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে। দিল্লির একটি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এই ৩৬ জন সন্দেহভাজন হাওয়ালা কারবারির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেরও একজন জড়িত রয়েছে।

জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকার একটি জেলার আদি বাসিন্দা। বর্তমানে তার সমস্ত লেনদেনের উপরে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা অত্যন্ত কড়া নজর রাখছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এই ৩৬ জন হাওয়ালা কারবারি জঙ্গিদের আন্তর্জাতিক হাওয়ালা সিন্ডিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছে, এমন তথ্য পেয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা গভীরভাবে চিন্তিত। দিনে দিনে ভারতেও যে জঙ্গিদের এই হাওয়ালা নেটওয়ার্ক দ্রুত সক্রিয় হয়ে উঠছে এবং শিকড় ছড়াচ্ছে, তার আভাস পেয়ে গোয়েন্দাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটেন থেকে পরিচালিত একটি বৃহৎ হাওয়ালা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা পৌঁছে যাচ্ছিল। গোয়েন্দাদের দাবি ছিল, এই হাওয়ালা নেটওয়ার্কের সঙ্গে পাকিস্তান এবং অন্যান্য বহু দেশের হাওয়ালা অপারেটরদের যোগাযোগ আছে। জানা গিয়েছিল, বিভিন্ন দেশের ট্রাস্টের মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক হাওয়ালা নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়। এক গোয়েন্দা কর্তার কথায়, আব্দুল মজিদ বা মজিদ সুলেমানি নামে এক জৈশ জঙ্গি কম্যান্ডার এই ট্রাস্টগুলির নাম করে হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা জোগাড় করত। শুধু ট্রাস্ট নয়, বিভিন্ন মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করেও টাকা তোলা হতো। আর এই বিপুল অঙ্কের টাকা দিয়েই জঙ্গিরা গোলা–বারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র কিনত। ব্রিটেনের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় এই সব ট্রাস্টের নাম–ধামও গোয়েন্দারা পেয়েছেন। আব্দুল মজিদের ভাই কাজি সাব্বির কীভাবে এই সব ট্রাস্টের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে টাকার আদান প্রদান করছে, সেই তথ্যপ্রমাণও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হাতে এসেছিল।

কিন্তু, দেশের ভিতরেই যে এই ভয়ঙ্কর টেরর ফান্ডিং নেটওয়ার্ক সক্রিয়ভাবে কাজ করছে সে বিষয়ে আগে অন্ধকারে ছিলেন গোয়েন্দারা। এখন পহেলগামের ঘটনা এবং তার পরে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের আবহে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হাতে আসা এই ৩৬ জন সন্দেহভাজন ভারতীয় হাওয়া ব্যবসায়ীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে দাবি গোয়েন্দা বাহিনী সূত্রের। অভিযোগ, এই হাওয়ালা কারবারিরা বিভিন্ন বৈধ ব্যবসার আড়ালে দেশ এবং বিদেশের একটি প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হাওয়ালা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছে। সেই টাকা সরাসরি পাক জঙ্গি নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করছে।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই ভয়ংকর হাওয়ালা সিন্ডিকেটের চাঁইদের গ্রেপ্তার করতে এবং জাল গুটিয়ে ফেলার জন্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা অত্যন্ত সন্তর্পণে এবং সতর্কতার সাথে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এই অভিযান সফল হলে দেশে জঙ্গিদের আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।