ট্রান্সজেন্ডারের ছদ্মবেশে আশ্রয় নিয়েছিল বাংলাদেশিরা, অবশেষে পুলিশের হাতে আটক ৬ জন

দিল্লিতে বর্তমানে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ধরতে জোরদার অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই এক ডজনেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরেই দিল্লি প্রশাসন এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন রূপান্তরকামী (ট্রান্সজেন্ডার) সেজে লুকিয়ে ছিলেন বলেও জানা গেছে।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার নতুন করে আরও ৩০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এরা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে দিল্লিতে বসবাস করছিলেন। এদের কারও কাছেই বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে এবং তাদের হস্তান্তরও করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, শীঘ্রই তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দিল্লির মান্দাভালি এলাকা থেকেই অন্তত ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এরা সকলেই মহিলা এবং তাদের নাম মিম আখতার, মীনা বেগম, শেখ মুন্নি, পায়েল শেখ, সোনিয়া আখতার এবং তানিয়া খান।
এদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ আরও কয়েকজনের খোঁজ পায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লির পাহাড়গঞ্জে অভিযান চালিয়ে আরও ৫ জনকে খুঁজে বের করা হয়। তাদেরও দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
অন্য একটি অভিযানে দিল্লির আজাদপুর সবজি মান্ডি থেকে চারজনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা ভারতে ঢুকে ট্রেনে চেপে দিল্লিতে এসেছিল এবং সেখানেই বসবাস শুরু করেছিল। পুলিশের অনুমান, তারা রূপান্তরকামীদের ছদ্মবেশে দিল্লিতে থাকছিল এবং নিজেদের শারীরিক গঠনে পরিবর্তন আনতে ছোটখাটো অস্ত্রোপচারও করিয়েছিল। এই চার অনুপ্রবেশকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই চক্রের মূল পান্ডা সহ আরও ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জেরা করে চেন্নাইতে বসবাসকারী আরও ৩০ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং তাদেরও শনাক্ত করা হয়েছে।