“ব্ল্যাক ম্যাজিকের অভিযোগ”-সীমা হায়দারের বাড়িতে ঢুকে গ্রেপ্তার হলেন গুজরাটের ব্যক্তি

গ্রেটার নয়ডার রাবুপুরা গ্রামে আশ্রয় নেওয়া পাকিস্তানি মহিলা সীমা হায়দারের বাড়িতে জোর করে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গুজরাটের সুরেন্দ্রনগরের বাসিন্দা ওই যুবককে শনিবার সন্ধ্যায় সীমা এবং তাঁর স্বামী সচিন মীনার বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ নন, কারণ তিনি এক অত্যন্ত অদ্ভুত দাবি করেছেন।

শনিবার রাত প্রায় ৭টা নাগাদ তেজস নামের ওই যুবক আচমকাই সীমা হায়দার ও সচিন মীনার বাড়িতে জোর করে প্রবেশের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে পুলিশে খবর দেন। দ্রুত রাবুপুরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে আটক করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই ব্যক্তি পুলিশকে জানিয়েছেন, সীমা ও সচিন নাকি ‘কালো জাদু’র মাধ্যমে তাকে গুজরাট থেকে গ্রেটার নয়ডার রাবুপুরা গ্রামে টেনে এনেছেন। রাবুপুরা কোতোয়ালির অফিসার সুজিত উপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ধৃত ব্যক্তি গুজরাট থেকে জেনারেল কোচের টিকিট কেটে দিল্লি স্টেশনে এসেছিলেন এবং সেখান থেকে বাসে করে গ্রামে পৌঁছন। তার মোবাইল ফোনে সীমা হায়দারের ফোন নম্বরের একটি স্ক্রিনশটও পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। পুলিশ এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ৩২ বছর বয়সী সীমা হায়দার পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের বাসিন্দা। তিনি স্বামী গুলাম হায়দার এবং চার সন্তানকে পাকিস্তানে রেখে মোবাইল গেম ‘PUBG’ খেলতে গিয়ে আলাপ হওয়া ভারতের সচিন মীনার টানে অবৈধভাবে নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে ২০২৩ সালের মে মাসে ভারতে আসেন। এরপর সচিনকে বিয়ে করে তিনি গ্রেটার নয়ডার রাবুপুরা গ্রামেই বসবাস করছেন। তাদের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।

সম্প্রতি পহেলগামে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত পাকিস্তানি নাগরিককে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের পর সীমা হায়দার বেশ আতান্তরে পড়েছেন এবং কোনোভাবেই পাকিস্তান ফিরে যেতে রাজি নন। সীমার আইনজীবী সম্প্রতি জানিয়েছেন যে তিনি সনাতন ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ভারতেই থাকার অনুমতি চেয়ে সম্প্রতি সীমা একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে নিজেকে ‘শরণার্থী’ হিসেবে উল্লেখ করে আবেদন জানিয়েছেন। এই আবহের মধ্যেই সীমার বাড়িতে এক যুবকের জোর করে ঢোকার চেষ্টার ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।