“পাকিস্তানকে জবাবের প্রস্তুতি?”-সেনা-নৌসেনার পর মোদীর সঙ্গে বৈঠকে এবার বায়ুসেনা প্রধান

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান এয়ার মার্শাল অমরপ্রীত সিং। আজ রবিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে পৃথক পৃথকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন স্থলসেনা প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী এবং নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ ত্রিপাঠীও।
পহেলগাম হামলার পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান এবং চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফকে ডেকে নিয়েছিলেন। সেই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে এই হামলার প্রতিশোধ কীভাবে নেওয়া হবে, তার পদ্ধতি এবং দিনক্ষণ – সবকিছু নির্ধারণের পূর্ণ স্বাধীনতা সশস্ত্র বাহিনীকেই দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশিকার পরই পাক সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠী বা সরাসরি পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে ভারতের সম্ভাব্য প্রত্যাঘাত নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই একের পর এক বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রতিরক্ষা সূত্র অনুযায়ী, গত ৩০ এপ্রিল সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী প্রধানমন্ত্রী মোদীর ৭, লোক কল্যাণ মার্গের বাসভবনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও উপস্থিত ছিলেন। এরপর শনিবার (৩ মে) সন্ধ্যা ৬টায় নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ ত্রিপাঠীও প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে এক ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন।
এই একের পর এক বৈঠকের পর প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সম্ভাব্য প্রত্যাঘাতের নীল নকশা বা ‘রেসিপি’ চূড়ান্ত হয়ে গেছে? প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে এই নিয়েই চলছে জোর জল্পনা। তবে জলপথ, আকাশপথ বা স্থলপথে ঠিক কখন এবং কীভাবে এই প্রত্যাঘাত করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু এখনো জানা যায়নি। তবে তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক সাক্ষাৎ যে বড় কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা স্পষ্ট।