“নিশানায় পাকিস্তান, উপায় নেই মাছি গলারও”- ভারতের হাতে এসে গেল ‘ইগলা-এস’ ক্ষেপণাস্ত্র

পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার আবহে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হলো অত্যাধুনিক রুশ নির্মিত ‘ইগলা-এস’ (Igla-S) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। সহজে বহনযোগ্য এই ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র হাতে আসায় আকাশপথে হামলা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ভারতের ক্ষমতা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

‘ইগলা-এস’ হলো একটি ম্যান-পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (MANPADS)। অর্থাৎ, এই ক্ষেপণাস্ত্র একজন ব্যক্তি কাঁধে রেখেই নিক্ষেপ করতে পারেন এবং এর জন্য কোনো বিশেষ প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন হয় না। নিচু দিয়ে উড়ে আসা যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং ড্রোনের মতো লক্ষ্যবস্তুকে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে আঘাত করার উদ্দেশ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী জরুরি ক্রয় ক্ষমতার অধীনে প্রায় ২৬০ কোটি টাকার চুক্তিতে রাশিয়া থেকে এই অত্যাধুনিক স্বল্প পাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি সংগ্রহ করেছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই একটি প্রতিরক্ষা সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, বিগত কয়েক সপ্তাহ আগেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে ‘ইগলা-এস’ ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন চালান এসে পৌঁছেছে। শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার বা ড্রোন হুমকির মোকাবিলায় এগুলি দ্রুততার সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হচ্ছে।

কীভাবে কাজ করে এবং এর গুরুত্ব:

‘ইগলা-এস’ একটি সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল বা ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র। এটি ‘ইনফ্রারেড হোমিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুর ইঞ্জিন থেকে নির্গত তাপ বা ‘হিট সিগনেচার’ শনাক্ত করতে পারে এবং তাকে অনুসরণ করে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম।

সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় দুর্গম পাহাড়ি বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে, যেখানে বড় মাপের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে যাওয়া কঠিন, সেখানেও এটি অত্যন্ত কার্যকর। ৬ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত এবং মাটি থেকে প্রায় ৩.৫ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। ড্রোন বা ছোট আকারের দ্রুতগতির আকাশযানের বিরুদ্ধেও এর কার্যকারিতা প্রমাণিত।

প্রসঙ্গত, ভারতীয় সেনাবাহিনী নব্বইয়ের দশক থেকে ‘ইগলা-এস’-এর পূর্বসূরি ‘ইগলা’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করত। ‘ইগলা-এস’ তারই এক উন্নততর সংস্করণ। বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে থাকা পুরনো ইগলা ক্ষেপণাস্ত্রগুলিরও একটি দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থার মাধ্যমে আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার পর থেকে পাকিস্তান সীমান্ত এবং নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং আইএসআইয়ের মতো সংগঠনগুলি ক্রমে হামলার জন্য ড্রোনের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ‘ইগলা-এস’-এর মতো দ্রুত মোতায়েনযোগ্য এবং কার্যকর স্বল্প-পাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে এবং সীমান্তবর্তী এলাকার সৈন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা মহল।