বিজেপির পঞ্চায়েতেই জয় পেলো তৃণমূল, সমবায় নির্বাচনে সবক’টি আসনেই হেরেছে বিরোধীরা

বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সমবায় নির্বাচনে বড়সড় সাফল্য পেল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। হলদিয়া ব্লকের বাড়বাসুদেবপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির পরিচালক মণ্ডলীর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ঘাসফুল শিবির। বিরোধীরা, অর্থাৎ বাম এবং বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীরা একটি আসনেও জয়লাভ করতে পারেননি।
কাঁথি, রামনগর সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সমবায় নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে বাম-বিজেপি জোট যখন ধরাশায়ী হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে বাড়বাসুদেবপুরের এই জয় শাসক দলের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই এলাকাটি বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির দখলে গিয়েছিল, যা এবার পুনরুদ্ধার করল তৃণমূল। রবিবার অনুষ্ঠিত বাড়বাসুদেবপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচনে মোট ১২টি আসন ছিল, যার সবকটিতেই জয়লাভ করেছে তৃণমূল।
রবিবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ঘিরে এলাকায় কঠোর পুলিশি নিরাপত্তা ছিল। তৃণমূল এবং বিজেপি উভয় শিবিরের মধ্যে চাপা উত্তেজনা থাকলেও নির্বাচন প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিকেলে ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, সমস্ত আসনে পরাজিত হয়েছেন বিরোধী বিজেপি এবং সিপিএম সমর্থিত প্রার্থীরা।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরেই তৃণমূলের জয়ী প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকরা সবুজ আবির মেখে এবং মিষ্টি মুখ করে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। এই সমবায়ের মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭৭৬, যার মধ্যে রবিবার ভোট পড়েছে ৬৩৬টি।
এই জয় প্রসঙ্গে হলদিয়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মানস দাস বলেন, “গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে আমরা এই এলাকায় হেরেছিলাম। কিন্তু তারপরও আমরা মানুষের জন্য উন্নয়নের কাজ চালিয়ে গেছি। মানুষ তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে এবং তাই এবার আমাদের সমর্থন করেছে। ধর্ম নয়, যে উন্নয়নই শেষ কথা, তা এখানকার মানুষ প্রমাণ করেছে।” তিনি আরও দাবি করেন যে, এই জয় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের পথ অনেকটাই সুগম করবে।
অন্যদিকে, স্থানীয় এক বিজেপি নেতার অবশ্য ভিন্ন সুর। তিনি অভিযোগ করেন, মানুষকে ভয় দেখিয়ে এবং জোর করে এই সমবায় নির্বাচন করানো হয়েছে। তাঁর দাবি, এই ফলাফলের কোনও প্রভাব আগামী বিধানসভা নির্বাচনে পড়বে না। তবে বিজেপির হাত থেকে এই এলাকা ছিনিয়ে নিতে পেরে তৃণমূল যে বেশ উজ্জীবিত, তা স্পষ্ট।