নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাকিস্তানের লাগাতার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, কড়া জবাব দিচ্ছে ভারতও ! মেইল-পার্সেল বন্ধ করল কেন্দ্র

জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) বরাবর পাকিস্তান লাগাতার দশ দিন ধরে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে চলেছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কুপওয়ারা, বারামুলা, পুঞ্চ, রাজৌরি, মেন্ধার, নৌশেরা, সুন্দরবনী এবং আখনুর সহ একাধিক এলাকায় বিনা প্ররোচনায় গুলি চালিয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী এর কড়া জবাব দিচ্ছে। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও-এর সন্ত্রাসবাদী হামলার পর থেকে এমনিতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এই হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি সংক্রান্ত কিছু বিষয় স্থগিত করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান এলওসি-তে গুলি চালানো শুরু করে। এরই মধ্যে এই লাগাতার গুলি চালানো এবং জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টার খবর নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনি ও রবিবার রাতেও (৩ ও ৪ মে) জম্মু ও কাশ্মীরের পাঁচটি জেলায় আটটি স্থানে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। যদিও, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। প্রতিরক্ষা মুখপাত্রের মতে, এই গুলিবর্ষণ নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে অবস্থিত পাকিস্তানি চৌকি থেকে করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা ২৪ এপ্রিল রাত থেকে শুরু হয়েছে এবং লাগাতার ১০ম রাত ধরে চলছে।
প্রথমে উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারা এবং বারামুলা জেলায় গুলি চালানো হয়, তারপর তা ক্রমশ পুঞ্চ, আখনুর এবং রাজৌরি জেলার সুন্দরবনী ও নৌশেরা সেক্টর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানি সেনারা নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে বেশ কয়েকটি চৌকিতে ছোটো অস্ত্র দিয়ে গুলি চালাচ্ছে।
জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টায় শতাধিক:
অন্যদিকে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সূত্রে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। খবর, ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় রয়েছে শতাধিক জঙ্গি। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) এই রকম ৪২টি লঞ্চপ্যাডের হদিশ মিলেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ পীরপঞ্জলে ৩২টি এবং উত্তর পীরপঞ্জলে ১০টি জঙ্গি ঘাঁটি চিহ্নিত করা হয়েছে। এই লঞ্চপ্যাডগুলিতে মোট ১০০ থেকে ১৩০ জন জঙ্গি রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। দক্ষিণ পীরপঞ্জলে অন্তত ১০০ জন এবং উত্তর পীরপঞ্জলে ৩২ জন জঙ্গি অনুপ্রবেশের জন্য অপেক্ষা করছে। সেনা সূত্রে খবর, সব মিলিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের এই লঞ্চ প্যাডগুলি থেকে ভারতে প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করে আছে কয়েকশো পাক জঙ্গি। কিছু নির্দিষ্ট লঞ্চপ্যাডের নামও জানা গেছে, যার মধ্যে দুধানিয়াল, চেলাবন্দি, ম্যাচা ফ্যাক্টরি, গড়ি দুপাট্টা, বাশ, আলিয়াবাদ (উত্তর পীরপঞ্জল) এবং রাওয়ালকোট, ডুঙ্গি, তাতাপানি, হাজিরা, কোটলি, সেনসা, পালানি, নিকিয়াল, পলক-মিরপুর, তাগোশ (দক্ষিণ পীরপঞ্জল) উল্লেখযোগ্য।
পহেলগাঁও হামলাকারীদের পালানোর চেষ্টা?
অন্যদিকে, পহেলগাঁওয়ে হামলাকারী জঙ্গিরা ভারতের চেন্নাই হয়ে শ্রীলঙ্কা পালিয়ে যাওয়ার মতলব আঁটছে বলেও খবর মিলেছে। জানা গেছে, শনিবার রাতে চেন্নাই থেকে শ্রীলঙ্কা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান উড়ে যায়। খবর, ওই বিমানে নাকি সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে ছয়জন জঙ্গি রয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তরফে এই সন্দেহজনক তথ্যের কথা শ্রীলঙ্কার বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। সূত্রের খবর, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে যে ছয়জন জঙ্গি রয়েছে তারা পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এরপরই দিল্লির তরফে কলম্বো বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষকে অ্যালার্ট দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিমানটিকে আলাদা একটি জায়গায় ল্যান্ড করিয়ে সকল যাত্রীদের তল্লাশি এবং লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে সন্দেহভাজন যাত্রীরা আদেও পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে জড়িত কিনা, সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কলম্বো বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।
পাকিস্তানের মেইল-পার্সেল বন্ধ করল ভারত:
এছাড়াও, সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। বন্দর এবং বাণিজ্যের পর এবার পাকিস্তানের মেইল আর পার্সেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত। কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, শনিবার ভারত বিমান ও স্থলপথে পাকিস্তান থেকে আগত সকল ধরনের মেইল এবং পার্সেল বিনিময় স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যোগাযোগ মন্ত্রকের ডাক বিভাগের এই বিবৃতিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছে এবং মন্ত্রী নিজেও এটি নিশ্চিত করেছেন। সবমিলিয়ে পাকিস্তানকে এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়তে নারাজ মোদী সরকার।