আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের চাপের মুখে পাকিস্তান? NIA-এর হাতে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় পর্যটকদের ওপর নৃশংস জঙ্গি হামলার তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি হয়েছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। রিপোর্টে সরাসরি দাবি করা হয়েছে, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তান এবং সেখানকার গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সরাসরি মদত ও ষড়যন্ত্র।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রের খবর, পহেলগামে সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে এনআইএ। সেই রিপোর্টে পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা (LeT), আইএসআই এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যৌথ ষড়যন্ত্রের সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, নিজেদের তৈরি এবং প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসবাদীদের ব্যবহার করেই পাকিস্তান এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা হামলার আগে এবং চলাকালীন পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) থাকা তাদের হ্যান্ডলার বা সঙ্গীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত।

এনআইএ রিপোর্টে স্থানীয়দের ভূমিকার উপর জোর

এনআইএ-র প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর আলোকপাত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পহেলগামের হামলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ, যারা এই সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও সহায়তা দিয়েছিল। ইতিমধ্যেই এনআইএ তাদের একটি তালিকাও তৈরি করেছে। এই স্থানীয় সহযোগীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এনআইএ তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে এই বিষয়টির উপর বিশেষ ভাবে জোর দিয়েছে, যা প্রমাণ করে স্থানীয় মদত ছাড়া এমন হামলা সম্ভব নয়।

তদন্তের সর্বশেষ পরিস্থিতি

পহেলগাম হামলার তদন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এনআইএ। তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫০ জন প্রত্যক্ষদর্শী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বয়ান রেকর্ড করেছে। এনআইএ ২০ জনেরও বেশি স্থানীয় বাসিন্দাকে চিহ্নিত করেছে, যাদের এই হামলার সঙ্গে যোগ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এনআইএ-র তদন্তকারী দল লস্কর-ই-তৈয়বার দুই সদস্য নিসার আহমেদ হাজী এবং মুস্তাক হোসেনকে এই হামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২২শে এপ্রিল পহেলগামে হওয়া হামলার সঙ্গে ২০২৩ সালে জম্মুতে সেনা কনভয়ের উপর হওয়া হামলার ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। উভয় ঘটনাতেই লস্কর-ই-তৈয়বার জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণও মিলেছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পরই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন শুক্রবার (২ মে) আনন্দবাজার পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে। এনআইএ-র এই রিপোর্ট পেহেলগাম হামলার পেছনে থাকা বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের উপর নতুন করে আলো ফেলেছে।