মাধ্যমিকের কৃতী তালিকায় বিহারের পুষ্পক, পরীক্ষায় স্থানাধিকার করে কী প্রতিক্রিয়া তাঁর?

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রকাশিত হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল, আর বরাবরের মতো এবারও মেধার বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছে রাজ্যের কৃতী ছাত্রছাত্রীরা। এই কৃতীদের ভিড়ে নিজেদের ঐতিহ্য ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন। এই প্রতিষ্ঠান থেকে এবার প্রথম দশের মেধা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে তিনজন ছাত্র, যা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান এবং ছাত্রদের কঠোর পরিশ্রমের এক জ্বলন্ত প্রমাণ। বিশেষ করে পঞ্চম স্থানে একই নম্বর (৬৯১) পেয়ে যুগ্মভাবে জায়গা করে নিয়েছে চৌধুরী মোহাম্মদ আসিফ এবং সোমতীর্থ করণ।
তবে এই কৃতীদের মধ্যে এক বিশেষ মুখ নজরে কেড়েছে অনেকেরই – সে হলো পুষ্পক রত্নম, মেধা তালিকার অষ্টম স্থানাধিকারী। পুষ্পকের গল্পটা একটু অন্যরকম। সে জন্মসূত্রে বিহারের বাসিন্দা হলেও, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে আপন করে নিয়ে সে পড়াশোনা করেছে বাংলায়, আর সফলও হয়েছে সেখানেই, বাংলা মাধ্যমেই পরীক্ষা দিয়ে। তার ঝরঝরে বাংলা শুনে বোঝার উপায় নেই যে তার জন্মভূমি আসলে বিহার।
মাধ্যমিক পরীক্ষায় এমন ঈর্ষণীয় স্থান অধিকার করে তার কেমন লাগছে? জানতে চাওয়া হলে পুষ্পকের সহজ অথচ দৃঢ় উত্তর, “আমরা সবাই স্কুলের রুটিন মেনে নিয়মিত পড়াশোনা করি। সকালে উঠে প্রার্থনা দিয়ে দিনের শুরু হয়, আর রাত ১১টা পর্যন্ত চলে কঠোর নাইট স্টাডি। আমার এই সাফল্যের পেছনে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের কঠোর নিয়মানুবর্তিতাই প্রধান কারণ।”
বিহারের নালন্দা জেলার বাসিন্দা হয়েও কেন সে বাংলায় পড়তে এল? এই প্রশ্নের উত্তরে পুষ্পক জানায় এক পারিবারিক ঐতিহ্য ও আত্মীয়দের পরামর্শের কথা। তার দুই দাদা এই নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন থেকেই পড়াশোনা করেছেন – একজন ১৯৯৮ সালে এবং অন্যজন ২০১৪ সালে পাশ করেন। বড়দের পথ অনুসরণ করেই তার মা-বাবা তাকে পঞ্চম শ্রেণিতে থাকাকালীন এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলে ভর্তি করে দেন আত্মীয়দের পরামর্শে।
স্কুলের নির্ধারিত কঠোর পড়াশোনার বাইরেও পুষ্পক প্রতিদিন প্রায় ছয় ঘন্টা ধরে নিজে পড়াশোনা করত। তার পছন্দের বিষয় অঙ্ক এবং বায়োলজি, আর ভবিষ্যতে তার স্বপ্ন ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করা। ছেলের এমন অসাধারণ সাফল্যে তার বাবা-মা স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত। পুষ্পক তার এই সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব দিতে চায় তার স্কুলের শিক্ষকদের। তার মতে, জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রেই কঠোর পরিশ্রমই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
পড়াশোনার বাইরেও পুষ্পকের কিছু প্রিয় অভ্যাস রয়েছে। পছন্দের খাবারের তালিকায় যেমন রয়েছে বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় চিকেন বিরিয়ানি, তেমনই তার প্রিয় খেলা ক্রিকেট। এই মুহূর্তে সমস্ত মনোযোগ তার এই অভূতপূর্ব সাফল্যকে পুরোপুরি উপভোগ করার দিকেই। বিহার থেকে এসে বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করে মেধা তালিকায় স্থান করে নেওয়া পুষ্পক রত্নম সত্যিই অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর কাছে এক অনুপ্রেরণা।