ITI স্বপ্ন, মাধ্যমিকে ভালো ফলের জন্য কতক্ষণ প্রস্তুতি নিত সৌম্য পাল?

অবশেষে প্রকাশিত হল মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ঠিক ৭০ দিনের মাথায় জানা গেল কৃতীদের নাম। এই বছর মাধ্যমিকে সেরার সেরা হয়েছে রায়গঞ্জ করোনেশন হাইস্কুলের কৃতি ছাত্র অদৃত সরকার, যার ঝুলিতে রয়েছে ৬৯৬ নম্বর। অন্যদিকে, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে বিষ্ণুপুর হাইস্কুলের সৌম্য পাল, সে পেয়েছে ৬৯৪ নম্বর।

সাফল্যের এই খবরে উচ্ছ্বসিত সৌম্য ইতিমধ্যেই তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। জীবনের প্রথম এত বড় পরীক্ষায় অভাবনীয় ফল করার পর সৌম্য বলে, “ছোটবেলা থেকেই আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি। এই সাফল্যের পিছনে আমার বাবা-মা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবদান অনস্বীকার্য। বরং আমার মনে হয়, আমার থেকে ওনারাই বেশি পরিশ্রম করেছেন।”

মাধ্যমিকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন, এত ভালো ফল কি আশা করেছিল সৌম্য? উত্তরে সে জানায়, “আমার সত্যিই খুব ভালো লাগছে, এখনও যেন বিশ্বাস হচ্ছে না। হ্যাঁ, একটা ভালো ফলের আশা তো ছিলই, তবে প্রথম তিনের মধ্যে থাকতে পারব, এটা ভাবিনি। আমার প্রস্তুতির মূল ভিত্তি ছিল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দেওয়া পরামর্শগুলি নিষ্ঠার সাথে পালন করা।”

মাধ্যমিকের প্রস্তুতির জন্য প্রতিদিন কতক্ষণ পড়ত সৌম্য? তার উত্তর, “আমি দিনে প্রায় ১২-১৩ ঘণ্টা পড়াশোনা করতাম। আর আমার প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা শিক্ষক ছিলেন।”

সৌম্যর ভবিষ্যৎ স্বপ্ন একজন সফল ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। সে আইআইটি থেকে পড়াশোনা করতে আগ্রহী এবং সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই জেইই-এর প্রস্তুতি শুরু করেছে। তবে শুধু পড়াশোনাতেই নয়, সৌম্যর আরও অনেক গুণ রয়েছে। সে দারুণ গান গায় এবং তার শখ তবলা বাজানো ও ছবি আঁকা।

এই বছর মাধ্যমিকের ফল নিঃসন্দেহে অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। প্রথম স্থানাধিকারী অদৃত এবং দ্বিতীয় স্থানাধিকারী সৌম্য উভয়েই তাদের পরিশ্রম ও একাগ্রতার প্রমাণ দিয়েছে। তাদের এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক এবং তাদের নিজ নিজ স্কুল গর্বিত। আমরা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই।