মাধ্যমিকে দ্বিতীয় স্থান অধিকারি সৌম্য, কৃতিত্ব দিলেন বাবা-মাকে !

এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশে নজর কাড়লেন জেলার দুই কৃতী ছাত্রছাত্রী। রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন বিষ্ণুপুরের সৌম্য পাল, তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৪। অন্যদিকে, রাজ্যের মধ্যে তৃতীয় এবং মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন বাঁকুড়ার কোতুলপুর সরোজ বাসিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের ঈশানী চক্রবর্তী, তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩।
সৌম্য পালের কথায়, তাঁর পড়াশোনার কোনও নির্দিষ্ট সময় ছিল না। যখন পড়তে ইচ্ছে করত, তখনই তিনি বই নিয়ে বসতেন। ফল প্রকাশের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সৌম্য বলেন, “ভালো ফল করব জানতাম। তবে মেধাতালিকার মধ্যে এভাবে চলে আসব তা ঠিক জানতাম না।” এই সাফল্যের জন্য তিনি তাঁর বাবা-মা এবং শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। বিষ্ণুপুরের বাড়িতে বসেই ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলাকে সৌম্য আরও জানান, তিনি আশা করেছিলেন ভালো ফল করবেন, তবে প্রথম তিনের মধ্যে আসবেন তা ভাবেননি। দিনে অন্তত ১০ ঘণ্টা পড়াশোনা করেই এই সাফল্য এসেছে বলে তিনি মনে করেন। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছে রয়েছে সৌম্যের। এই সাফল্যের পিছনে বাবা-মায়ের পাশাপাশি শিক্ষকদের অবদানও অনস্বীকার্য বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, বাঁকুড়ার কোতুলপুরের ঈশানী চক্রবর্তী প্রথম খবরটি শুনে রীতিমতো অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঈশানী জানান, তাঁর পড়াশোনার কোনও নির্দিষ্ট সময় ছিল না। এই সাফল্যের জন্য তিনি তাঁর বাবা-মায়ের অবদানকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। আগামী দিনে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করে গবেষণার প্রতি তাঁর আগ্রহ রয়েছে বলেও জানান ঈশানী। ঈশানীর মা, পেশায় শিক্ষিকা সোনালী চক্রবর্তী জানান, তাঁদের মেয়ে প্রত্যাশিত সাফল্য পেয়েছে এবং তাঁরা এতে অত্যন্ত খুশি। ছোটবেলা থেকেই ঈশানী পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল বলেই এই ফল সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ১০ই ফেব্রুয়ারি এবং ৭০ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। পর্ষদ সভাপতি সাংবাদিক বৈঠকে জানান, দিনরাত জেগে এই ফল প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এই কাজের সঙ্গে যুক্ত সকলকে তিনি ধন্যবাদ জানান। খবর অনুযায়ী, আজ শুক্রবার বেলা বাড়ার পর থেকে স্কুলগুলিতে মার্কশিট পাওয়া যাবে। তবে অনলাইনে সকাল ১০টা থেকেই মাধ্যমিকের ফলাফল জানা যাচ্ছে। পর্ষদের ওয়েবসাইট অথবা অ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা তাদের ফল জানতে পারছেন।