ঘরে শুয়েছিলেন যুবক, তুমুল ঝড়ে টিনের চাল ভেদ করে পড়ল গাছের ডাল, অতঃপর …যা ঘটলো?

বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তর ২৪ পরগণার বারাসত এলাকায় প্রবল ঝড়বৃষ্টির সময় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঝোড়ো হাওয়ায় একটি বিশাল গাছের ডাল ভেঙে টিনের চাল ভেদ করে ঘরের ভেতরে শুয়ে থাকা এক যুবকের উপর পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৃত যুবকের নাম গোবিন্দ বৈরাগী, বয়স ৩০ বছর। ঘটনাটি ঘটেছে বারাসতের ইন্দিরা কলোনি এলাকায়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে যখন প্রবল ঝড় শুরু হয়, তখন গোবিন্দ বৈরাগী তাঁর টিনের চালের ঘরের ভেতরে নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে ছিলেন। তাঁদের ঘরের পাশেই ছিল একটি পুরোনো এবং বিশাল আকারের গাছ।

ঝড়ের দাপটে যখন গাছটি প্রবলভাবে দুলে উঠছিল এবং ডালপালার শব্দ হচ্ছিল, তখন আশেপাশের বাড়ির লোকজন ভীত হয়ে পড়েন এবং অনেকেই সতর্ক ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই পাশের সেই বিশাল গাছের একটি মোটা ডাল ভেঙে গোবিন্দদের টিনের চালের উপর সশব্দে আছড়ে পড়ে। ডালটি এতই ভারী ছিল যে এটি অনায়াসে টিনের চাল ভেদ করে সরাসরি গোবিন্দ বৈরাগীর উপর এসে লাগে।

ঝড়ের মধ্যে প্রতিবেশীরা আওয়াজ শুনে ছুটে আসেন এবং দ্রুত উদ্ধারকাজে হাত লাগান। খবর পেয়ে বারাসত থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। করাত দিয়ে ভেঙে পড়া গাছের ডাল কেটে গোবিন্দকে চাপা পড়া অবস্থা থেকে বের করার চেষ্টা শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত বারাসত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে দুর্ভাগ্যবশত, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা গোবিন্দ বৈরাগীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এদিনের ঝড়ে বারাসত পুরসভা এলাকার আদিবাসী পাড়াতেও অন্তত ৬টি ঘরের উপর গাছ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে সেখানকার ঘটনাগুলিতে কেউ হতাহত হননি বলে জানা গেছে। এই দুর্ঘটনার পর গোটা ইন্দিরা কলোনি এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার এবং ভেঙে পড়া গাছ সরানোর কাজ শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতা সহ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রবল ঝড়বৃষ্টি হয়। বহু জায়গায় গাছ ভেঙে পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়, রেল লাইনের উপর গাছের ডাল পড়েও বিপত্তি ঘটে। ঝড়ের এমন ভয়াবহ রূপের বলি হলেন বারাসতের গোবিন্দ বৈরাগী।