কন্যাশ্রীর টাকা লোপাটের অভিযোগ, অভিযুক্ত তৃণমূল শিক্ষক নেতাকে থানা থেকেই জামিন, বড় প্রশ্ন প্রশাসনকে নিয়ে

প্রায় ৫০ জন ছাত্রীর কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মালদার মানিকচকের এনায়েতপুর হাইস্কুলের এক সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করলেও, অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করা এবং পরে গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই থানা থেকে জামিন দিয়ে দেওয়া নিয়ে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক সুনন্দ মজুমদারের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই এমনটা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।
কী অভিযোগ উঠেছিল?
অভিযোগ অনুযায়ী, এনায়েতপুর হাইস্কুলের ৪৬ জন ছাত্রী তাদের কন্যাশ্রীর টাকা পায়নি। পরে তদন্তে জানা যায়, স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক সুনন্দ মজুমদার স্কুলেরই এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং স্থানীয় একটি ব্যাঙ্কের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের কর্মীর সঙ্গে যোগসাজশ করে ছাত্রীদের প্রাপ্য টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগ ও গুরুতর মামলা, কিন্তু অধরা অভিযুক্ত:
এই ঘটনা সামনে আসার পর স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাদিউজ জামান অভিযুক্ত সুনন্দ মজুমদারের বিরুদ্ধে মানিকচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে পুলিশ সুনন্দ মজুমদারের বিরুদ্ধে চারটি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে। কিন্তু মামলা রুজু হওয়ার পরও প্রায় চার মাস ধরে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। এই সময়ের মধ্যে সুনন্দ মজুমদার স্কুলেও যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
বিক্ষোভের পর পুলিশি পদক্ষেপ ও বিতর্কিত জামিন:
গ্রেফতারের দাবিতে গত সোমবার ছাত্র সংগঠন SFI স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখায়। এই বিক্ষোভের ঠিক পরদিনই, মঙ্গলবার, অভিযুক্ত সুনন্দ মজুমদার স্কুলে যান। সেই রাতেই পুলিশ বাঙালগ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। প্রথমে জানা গিয়েছিল যে অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু এই খবরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তাঁকে ‘পিআর বন্ডে’ (Personal Recognition Bond) থানা থেকেই জামিন দিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ থানা থেকে কী করে জামিন দিতে পারে, তা নিয়ে এখন আইনি এবং প্রশাসনিক মহলে বড় প্রশ্ন উঠছে।
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ বনাম আইনজীবীর দাবি:
SFI-এর স্পষ্ট অভিযোগ, সুনন্দ মজুমদার স্থানীয় ব্লকের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা এবং মানিকচক তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি। তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাবের কারণেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার না করে রেয়াত করেছে এবং দ্রুত জামিন দিয়ে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, পুলিশ এটাই বোঝাতে চাইছে যে রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে বিচার এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।
যদিও অভিযুক্ত সুনন্দ মজুমদারের আইনজীবী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, প্রধান শিক্ষক বাদিউজ জামান ব্যক্তিগত আক্রোশের বশে সুনন্দবাবুকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন এবং এই বিষয়ে মালদা জেলা আদালতে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। আইনজীবী আরও জানান, পুলিশ সুনন্দবাবুকে গ্রেফতার করেনি, কেবলমাত্র জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকেছিল এবং পরে ছেড়ে দিয়েছে। তাঁর মতে, গ্রেফতারির খবরটি সঠিক নয়।
সব মিলিয়ে কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকা নয়ছয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ এবং পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকা মালদার মানিকচকে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ঘটনার তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল।