রাজ্য সাঁতারে চরম অচলাবস্থা! কমিটি গঠন ঘিরে তুঙ্গে ডামাডোল, বারবার ভেস্তে যাচ্ছে বৈঠক

রাজ্য সাঁতার সংস্থা (Bengal Amateur Swimming Association – BASA) বর্তমানে এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন। কমিটির মেয়াদ ফুরিয়েছে গত ফেব্রুয়ারিতে, কিন্তু নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরুই করা যাচ্ছে না। এর মূলে রয়েছে কার্যকরী কমিটির বৈঠকে সদস্যদের লাগাতার অনুপস্থিতি, যার ফলে বৈঠক ডাকলেও কোরাম হচ্ছে না। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, টানা তিনটি বৈঠকে একই ছবি দেখা গেছে।
বৈঠক ডাকলেও সাড়া নেই, আটকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ:
রাজ্য সাঁতার সংস্থার ১২ সদস্যের কার্যকরী কমিটির বৈঠকে ন্যূনতম ৩ জন সদস্যের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও, এই সংখ্যাটিও পূরণ হচ্ছে না। গত ২৮ এপ্রিল সোমবারও কার্যকরী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছিল। আসন্ন স্টেট গেমস ও খেলো ইন্ডিয়ায় যোগদান সংক্রান্ত আলোচনা, আর্থিক হিসেব পেশ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচ্যসূচিতে থাকা সত্ত্বেও সদস্যদের অভাবে সেই বৈঠকও ভেস্তে যায়।
সভাপতি রামানুজ মুখোপাধ্যায় সহ সহ-সভাপতি অলোক চক্রবর্তী, রমেন বিশ্বাস, দেবেন্দ্র দাস, স্নেহাশিস বিশ্বাস এবং সচিব অতনু ঘোষ, সহসচিব কঙ্কন পানিগ্রাহী, সুব্রত চক্রবর্তী, অশোক দত্ত, দিবাকর চক্রবর্তী ও কার্যকরী সচিব ও কোষাধ্যক্ষ দেবাশিস পাত্র এই কমিটির সদস্য।
সচিবের অভিযোগ ও বিরোধী শিবিরের পাল্টা দাবি:
সংস্থার সাধারণ সচিব অতনু ঘোষ অবশ্য দাবি করেছেন যে, ২৮ এপ্রিলের বৈঠকে পাঁচজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন এবং এই সংখ্যা কোরাম হওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাঁর অভিযোগ, যারা সাঁতারের ভালো চান না, তারাই ইচ্ছাকৃতভাবে বৈঠকে আসছেন না এবং এই অচলাবস্থার সৃষ্টি করছেন। নতুন কমিটিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া বা নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য বৈঠক জরুরি বলেও তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের স্বপন আদকের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, কার্যকরী কমিটির অধিকাংশ সদস্যই বর্তমান সভাপতি রামানুজ মুখোপাধ্যায়ের উপর বীতশ্রদ্ধ, তাই তাঁরা বৈঠকে যাচ্ছেন না। স্বপন আদকের আরও অভিযোগ, ২০২১ সালে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ও সুইমিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার মদতে ‘ছলচাতুরি’ করে বর্তমান কমিটি ক্ষমতা দখল করেছে। তাঁর মতে, রামানুজ মুখোপাধ্যায় ৪০ বছর ধরে রাজ্য সাঁতারের শীর্ষে রয়েছেন এবং রাজনৈতিক রং বদলের সঙ্গে সঙ্গে শিবির বদল করে নিজের পদ ধরে রেখেছেন, কিন্তু বাংলার সাঁতারের কোনো উন্নতি করেননি। অতনু ঘোষ মিথ্যা বলছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
অচলাবস্থার পেছনে গোষ্ঠীর ইন্ধনের ইঙ্গিত?
শুধু স্বপন আদকই নন, বর্তমান কমিটির সহ-সচিব কঙ্কন পানিগ্রাহীও প্রেসিডেন্টের কার্যকলাপে একাধিকবার অনাস্থা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে অতনু ঘোষ বলছেন, প্রেসিডেন্ট নিজেও নতুন কমিটি গড়তে আগ্রহী, কিন্তু সদস্যদের উপস্থিতি ছাড়া তা সম্ভব নয়। স্টেট গেমসে সাঁতারুদের হয়রানি বা পদক না পাওয়ার মতো বিতর্কের জন্য তিনি বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে দায়ী করেন, তবে জাতীয় গেমসের বিতর্ককে সত্যতা-হীন বলে উড়িয়ে দেন। তাঁর মতে, রাজ্য সাঁতার সংস্থায় পরিকল্পিতভাবে অচলাবস্থা তৈরি করা হচ্ছে এবং এর পেছনে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর ইন্ধন রয়েছে।
সব মিলিয়ে রাজ্য সাঁতার সংস্থার নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। কবে এই অচলাবস্থার অবসান ঘটবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। বিদায়ী কমিটি দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে সওয়াল করলেও, মনে করা হচ্ছে রাজ্য সাঁতারে সঙ্কট এতটাই গভীর যে কেবল ক্ষমতা বদলেই তা মিটবে না। বরং মনে হচ্ছে, সমস্যা সমাধানের চেয়ে জলঘোলা করতেই বেশি আগ্রহী পদাধিকারীদের একাংশ।