অবশেষে কাটল জট, রাজ্যপালের স্বাক্ষরে হাওড়া পুরভোটের পথ প্রশস্ত

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আটকে থাকার পর অবশেষে হাওড়া পুরভোটের জট কাটল। বহু প্রতীক্ষিত হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (সংশোধনী) বিলে সম্মতি দিয়েছেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। ২০১৩ সালের পর আর হাওড়ায় পুরভোট হয়নি। নানা প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে ছিল নির্বাচন প্রক্রিয়া। রাজ্যপালের এই স্বাক্ষরের পর সেই জটের অবসান হলো।

বিল আটকে থাকার প্রেক্ষাপট:

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৫ সালে। বালি পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ডকে হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এর ফলে হাওড়ার মোট ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে হয় ৬৬। কিন্তু ২০২১ সালে রাজ্য সরকার ফের বালি পুরসভাকে হাওড়া থেকে আলাদা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই মর্মে বিধানসভায় একটি সংশোধনী বিল পাশ করানো হয়। বিধানসভায় পাশ হওয়া এই বিলটি তারপর থেকে রাজ্যপালের দফতরে আটকে ছিল।

তামিলনাড়ু ইস্যু ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার প্রভাব:

এই বিল আটকে থাকার মধ্যেই তামিলনাড়ুতেও প্রায় একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানেও বিধানসভায় পাশ হওয়া একাধিক বিল রাজ্যপালের সম্মতির অভাবে আটকে ছিল। এই নিয়ে তামিলনাড়ু সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। শীর্ষ আদালত এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে জানায় যে, বিধানসভা কর্তৃক পাশ হওয়া কোনো বিল রাজ্যপাল অনির্দিষ্টকাল ধরে আটকে রাখতে পারেন না। তিন মাসের মধ্যে তাকে অবশ্যই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশের পরেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও হাওড়ার আটকে থাকা বিলটি নিয়ে আলোচনা এবং দ্রুত অনুমোদনের দাবি ওঠে।

মনে করা হচ্ছে, তামিলনাড়ু সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশনার পর রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন সংশোধনী বিলটিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছেন। এর ফলে হাওড়া পুরভোটের আগে একটি বড় প্রশাসনিক বাধা দূর হলো। এখন দেখার বিষয়, কবে হাওড়ায় পুরভোটের দিন ঘোষণা হয়।