“আর বরদাস্ত করা হবে না..”-পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে কড়া বার্তায় সতর্ক করলো ভারতীয় সেনা

পহেলগাম হামলার জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনার আবহে নিয়ন্ত্রণরেখা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর পাকিস্তানের কার্যকলাপ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। পাক সেনা বিনা প্ররোচনায় ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে চলেছে, আর এর মধ্যেই ইসলামাবাদ ভুগছে ভারতের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কায়। এই পরিস্থিতিতেই এবার পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিল ভারত।
প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরেই নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পাক সেনা বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে চলেছে এবং ভারতীয় ভূখণ্ড লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করছে। পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে মঙ্গলবার রাতে, যখন জম্মুর পারগওয়াল সেক্টরে আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকাতেও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অবিরাম গুলিবর্ষণ করা হয়, যা সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এই লাগাতার প্ররোচনার জবাব ভারতও সমান শক্তিতে দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে এই প্ররোচনার নেপথ্যে পাকিস্তানের দিক থেকে ভারতের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের তীব্র আশঙ্কা কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। পহেলগাম হামলার প্রতিশোধ নিতে ভারত বড়সড় সামরিক পদক্ষেপ করবে বলে আশঙ্কা করছে ইসলামাবাদ। এই সম্ভাব্য ভারতীয় আগ্রাসন মোকাবিলা করার জন্য পাক সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। পাক নৌবাহিনীকেও হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। এমনকি নিজেদের বিমানকে ভারতীয় বিমান বলে ভুল করে যাতে তারা গুলিবিদ্ধ না হয়, সেই আশঙ্কায় পাকিস্তানি বিমান বাহিনী তাদের নিয়মিত অভিযান ৫০ শতাংশেরও বেশি কমিয়ে দিয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তানের এক মন্ত্রী তো সরাসরি দাবি করেছেন যে, আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের পক্ষ থেকে হামলা চালানো হতে পারে। এই সব পদক্ষেপ ও মন্তব্য পাকিস্তানের গভীর আতঙ্কেরই ইঙ্গিত।
পাকিস্তানের এই লাগাতার প্ররোচনা এবং হামলার আশঙ্কায় তাদের তৎপরতার প্রেক্ষিতেই ভারত এবার সরাসরি কূটনৈতিক পথে কড়া বার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মঙ্গলবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে হটলাইনে যোগাযোগ করে পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (DGMO)-কে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নিয়ন্ত্রণরেখা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে পাকিস্তানের এই ধরনের উস্কানিমূলক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে গুলিবর্ষণ কোনোভাবেই আর সহ্য করা হবে না। এই কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ না করলে ভারত চুপ করে থাকবে না বলেও পরোক্ষভাবে ইসলামাবাদকে সতর্ক করা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্ররোচনা, তাদের পাল্টা হামলার আতঙ্ক এবং ভারতের স্পষ্ট সতর্কবার্তা— সব মিলিয়ে বর্তমানে ভারত-পাক সীমান্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে।