জঙ্গি নেতা হাফিজ সইদের গোপন আস্তানার খোঁজ, পাকিস্তানে বিলাসিতায় কাটছে জীবন

ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি এবং ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার মূল চক্রী, লস্কর-ই-তইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের গোপন ডেরার সন্ধান অবশেষে নিশ্চিত করা হয়েছে। অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট ছবি এবং ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘ মনোনীত এই সন্ত্রাসবাদী পাকিস্তানের লাহোরের প্রাণকেন্দ্রেই আস্তানা গেড়ে আছে এবং পাকিস্তান প্রশাসনের উচ্চ মানের নিরাপত্তায় বহাল তবিয়তে জীবন কাটাচ্ছে।
জুহর টাউনে হাফিজের গোপন আস্তানা:
প্রতিবেদনে প্রকাশ, স্যাটেলাইট ছবি এবং ভিডিও বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করা গিয়েছে হাফিজ সইদের লাহোরের জুহর টাউনে (Jauhar Town) থাকার বিষয়টি। সামনে আসা ছবিগুলি থেকে হাফিজের একটি বিশাল বাসভবন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, যেখানে সে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকে। একই কমপ্লেক্সের দুই নম্বর ভবনে একটি মসজিদ এবং মাদ্রাসা রয়েছে। এই মসজিদ ও মাদ্রাসার ঠিক নিচেই একটি বাঙ্কার তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যেখানে হাফিজের নিরাপত্তারক্ষীরা থাকে। এই কমপ্লেক্সের সামনে একটি পার্কও দেখা যাচ্ছে, যা হাফিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত। এই লাহোরের ডেরা থেকেই হাফিজ তার নেটওয়ার্ক চালায় এবং কাশ্মীর সহ ভারতে সন্ত্রাসবাদীদের মদত জুগিয়ে যায়।
পাক প্রশাসনের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়:
সামনে আসা ভিডিও এবং তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, হাফিজ সইদ একজন জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিকভাবে মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি হওয়া সত্ত্বেও এবং যাকে পাকিস্তানের সরকারের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত, সেই তাকেই পাক সেনা ও প্রশাসন গ্রেফতার না করে বরং পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে রেখেছে। পাকিস্তান প্রশাসনের তরফে তাকে উচ্চ মানের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। এই কুখ্যাত জঙ্গির জন্য পাক সরকার ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছে। একই সঙ্গে হাফিজের নিজস্ব ব্যক্তিগত রক্ষীও রয়েছে, যাদের সে ২৪ ঘণ্টা সঙ্গে রাখে। রিপোর্টে প্রকাশ, হাফিজ এখন আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের সঙ্গেও মেলামেশা করে এবং তার জীবন-যাপন আপাতদৃষ্টিতে আর পাঁচজনের মতোই, কিন্তু তাকে দেওয়া নিরাপত্তা দেখে স্পষ্ট যে সে একেবারেই সাধারণ জীবন যাপন করছে না।
মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড:
লস্কর-ই-তইইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। এই ভয়াবহ হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। জাতিসংঘ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তালিকায় সে একজন চিহ্নিত এবং মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসবাদী। যদিও মুম্বই হামলার পর ভারত হাফিজকে মূল দায়ি বলে দাবি করলেও, হাফিজ লস্করের নেতা হওয়ার অভিযোগ এবং ভারতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।
সাম্প্রতিক নিরাপত্তা জোরদার ও জল্পনা:
জানা গেছে, গত মাসে হাফিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবু কাতাল নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান সরকার হাফিজের নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছিল এবং আইএসআইও তার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে পর্যালোচনা করেছিল। লস্করের সদর দফতর পাকিস্তানের পঞ্জাবের মুরিদকেতে অবস্থিত। লাহোরের প্রাণকেন্দ্রে হাফিজের সুরক্ষিত অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে যে পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ না করে, তাহলে ভারত মুরিদকের সেই দফতরে সামরিক হামলা চালাতে পারে।
লাহোরের প্রাণকেন্দ্রে সুরক্ষিতভাবে একজন জাতিসংঘ মনোনীত সন্ত্রাসীর অবস্থান নিশ্চিত হওয়া ভারতের দীর্ঘদিনের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে এবং পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের সামনে চলে এসেছে।