“বড়বাজারের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড”-১৪ জনের মৃত্যু, আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী মোদীর

মধ্য কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা বড়বাজারের মেছুয়ায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ এবং বিধান সরণির সংযোগকারী রাস্তার পাশে অবস্থিত ‘ঋতুরাজ’ নামে একটি বেসরকারি হোটেলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিহতদের পরিবার ও আহতদের জন্য আর্থিক সাহায্যের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধারকার্য:

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ হোটেলটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ১০টি ইঞ্জিন। প্রায় ৮ ঘণ্টার নিরন্তর চেষ্টায় দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। হোটেলের ভেতরে দাহ্য পদার্থ মজুত থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে। আটকে পড়া বহু মানুষ ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, বেশিরভাগ মৃত্যু শ্বাসরুদ্ধ হয়েই ঘটেছে। আগুন নেভার পর শুরু হয় উদ্ধারকার্য, এবং তাতেই একের পর এক দেহ উদ্ধার হতে থাকে।

ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা:

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ, একজন মহিলা এবং দুই শিশু রয়েছে। মৃত ১৪ জনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৮ জনের দেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। জানা গেছে, নিহতদের অধিকাংশই কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকা তামিলনাড়ু, বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। বাকি মৃতদেহগুলি শনাক্ত করার কাজ চলছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও, একজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর শোক এবং সাহায্য ঘোষণা:

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার সকালে এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, “কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় আমি শোকাহত। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন তাঁদের প্রতি আমার সমবেদনা। আহতরা শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠুন।” প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে নিহতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। এছাড়া, আহতদের মাথাপিছু ৫০,০০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার রাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এক্স হ্যান্ডলে ঘটনার কথা উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “বড়বাজার এলাকার একটি বেসরকারি হোটেলে (ঋতুরাজ) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি আমার হৃদয় কাঁদছে। আমি সারা রাত ধরে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ অভিযান তদারকি করেছি।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনাস্থলে সর্বাধিক দমকল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং ভেতরে দাহ্য পদার্থ মজুত থাকার কারণেই শেষ পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

বিরোধী দলনেতার প্রতিক্রিয়া:

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “যথাযথ অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এবং অন্যান্য অবহেলার কারণেই এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে, যার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া উচিত। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে এই দুর্ঘটনাটি ঘটল, তবুও ঘটনার বিবেচনা করে পর্যাপ্ত এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাপনা ছিল না। কেন?”

তদন্ত শুরু:

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কীভাবে ঘটল এবং এর জন্য কারা দায়ী, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের তরফে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। মৃতদের শনাক্তকরণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের কাজ চলছে। বড়বাজারের এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কলকাতা শহরে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।