বাঁকুড়ার ৩০০০ পদ্ম এবার দিঘায়! তাতেই সাজবে জগন্নাথ ধাম, শুশুনিয়ার পবিত্র জলও

আজ, অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্য তিথিতে পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘার সমুদ্র সৈকতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নবনির্মিত জগন্নাথ দেবের মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা। ‘বাংলার জগন্নাথ ধাম’ হিসেবে পরিচিতি পেতে চলা এই মন্দির উদ্বোধন ঘিরে দিঘা এখন সেজে উঠেছে উৎসবের মেজাজে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে রাজ্য সহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত এবং পুণ্যার্থীরা সমবেত হয়েছেন। এই শুভক্ষণে জগন্নাথ দেবের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক অনন্য অর্ঘ্য পৌঁছেছে বাঁকুড়া জেলা থেকে।

বাঁকুড়া জেলার শুশুনিয়া পাহাড় সংলগ্ন পবিত্র জম ধারার জল এবং সেখানকার পুকুরে ফোটা পদ্মফুল নিয়ে আসা হয়েছে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের জন্য। স্থানীয়দের কাছে শুশুনিয়ার জম ধারার জল অত্যন্ত পবিত্র বলে বিবেচিত হয়; এই জল পান করা হয় এবং স্নানেও ব্যবহৃত হয়। এই পবিত্র ঝর্ণার জল সংগ্রহ করা হয়েছে বিশেষ পাত্রে।

একই সঙ্গে, বাঁকুড়ার ছাতনা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে লাল ও সাদা রঙের মোট তিন হাজার তিনশো তিন (৩৩০৩)টি পদ্মফুল। এই বিপুল সংখ্যক পদ্মফুল এবং শুশুনিয়ার ধারার পবিত্র জল প্রভু জগন্নাথ দেবের মন্দির প্রতিষ্ঠা এবং পুজোর উদ্দেশ্যে অর্পণ করা হবে।

দিঘার উদ্দেশ্যে পদ্মফুল ও শুশুনিয়ার পবিত্র জল সমেত গাড়িটি রওনা দেওয়ার আগে ছাতনায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বহু মহিলা ঢাক, কাঁসর, ঘন্টা বাজিয়ে, উলুধ্বনি ও শঙ্খ ধ্বনি দিয়ে ভক্তিভরে গাড়িটিকে বিদায় জানান। এই বিশেষ অর্ঘ্যের মাধ্যমে বাঁকুড়ার ভক্তরা জগন্নাথ দেবের প্রতি তাঁদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।

দিঘার মন্দির চত্বর এখন সাজো সাজো রবে মুখরিত। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছে। বাঁকুড়া জেলা থেকেও বহু পুণ্যার্থী এই পুণ্য মুহূর্তের সাক্ষী হতে দিঘায় উপস্থিত হয়েছেন। শুশুনিয়ার পবিত্র জল এবং ছাতনার পদ্মফুল – বাঁকুড়ার এই বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য দিঘার জগন্নাথ ধামের প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।