“স্বস্তির নিশ্বাস ৭০ পরিবারে”-নিষেধাজ্ঞা বহাল সত্ত্বেও বর্ডার পার করতে পারবেন শুধু এই পাক নাগরিকরাই

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক তিক্ততা চরম সীমায় পৌঁছে গেছে। এই আবহে পাক নাগরিকদের জন্য ভারতে প্রবেশের ক্ষেত্রে জারি হয়েছিল একপ্রকার ‘নো এন্ট্রি’ নির্দেশিকা, এমনকি বৈধ ভিসাধারী অনেক পাক নাগরিককেও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ভারত ছাড়তে হয়েছিল। তবে এবার কিছুটা কড়াকড়ি শিথিল করে বিশেষ কয়েকজন পাক নাগরিককে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের তরফে শুধুমাত্র NORI ভিসাধারী (No Obligation to Return to India) পাক নাগরিকদেরই সীমান্ত পার করে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে বহু ভারতীয় পরিবারে স্বস্তির নিশ্বাস এনে দিয়েছে। এই NORI ভিসা মূলত এমন পাক নাগরিকদের কাছে থাকে যারা বৈবাহিক সূত্রে ভারতীয় পরিবারের সঙ্গে আবদ্ধ, অর্থাৎ ভারতীয়দের বিয়ে করেছেন। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতিতে এই সমস্ত পাক নাগরিকরা সীমান্তপারে আটকে পড়েছিলেন। বিদেশ মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তে তারা অবশেষে ভারতে প্রবেশের ছাড়পত্র পেল।
এই ছাড়পত্র আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার আত্তারি সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন ৭০ জন পাকিস্তানি নাগরিক। পাক নাগরিকদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর, ভারতে বিবাহিত পাকিস্তানি নাগরিকদেরও এ দেশে ফিরে আসার অনুমতি মিলছিল না। অনেকে পাকিস্তানে বাপের বাড়ি বা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে গিয়ে হামলার পর থেকে আটকে পড়েছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের এই মানবিক সিদ্ধান্তে সেই সব পরিবারের মুখে এ বার হাসি ফুটেছে।
উল্লেখ্য, ভারত সরকারের পূর্ববর্তী নির্দেশ অনুযায়ী, সমস্ত পাক নাগরিকদের ভারত ছেড়ে যাওয়ার সময়সীমা পেরিয়েছে গত ২৭ এপ্রিল রাত বারোটায়। এর পরও যদি কোনও পাক নাগরিক বৈধ কারণ ছাড়া ভারত ছেড়ে না গিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে তাঁকে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে। ২০২৫ সালের অভিবাসন এবং বিদেশি আইনের ২৩ ধারা অনুসারে, কোনও পাকিস্তানি যদি এখনও ভারতে থেকে গিয়ে থাকেন তাহলে তাঁর ৩ বছরের কারাদণ্ড, ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা বা দুটিই এক সঙ্গে হতে পারে।
পহেলগাম হামলার জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। এই অবস্থায় কেবল NORI ভিসাধারী পাক নাগরিকদের ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া কেন্দ্রীয় সরকারের একটি ব্যতিক্রমী এবং মানবিক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার আবহেও কিছু পরিবারের জন্য স্বস্তি নিয়ে এসেছে।