“কোন মুখে রাজ্যের মর্যাদা চাইব?”-পহেলগাম হামলার পরে আক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর

সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করে জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার পর থেকেই রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বারবার চাপ সৃষ্টি করে আসছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লা। তবে সম্প্রতি পহেলগাঁওতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর তাঁর অবস্থানে নাটকীয় বদল এসেছে। সোমবার জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় (প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে) বক্তব্য রাখতে দিয়ে তিনি ২৬ প্রাণের বিনিময়ে রাজ্যের মর্যাদা চাওয়ার কথা উল্লেখ করে আবেগবশত এই মুহূর্তে সেই দাবি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বইসারান এলাকায় এই ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়। এই হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, জঙ্গিরা পর্যটকদের ধর্মীয় পরিচয় জেনে নিয়ে বেছে বেছে তাদের খুন করেছে। এই ঘটনার পর গোটা দেশে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
সোমবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওমর আবদুল্লা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি বারবার সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, “আমরা আগে এমন অনেক হামলা দেখেছি। বৈসরনের মতো এতবড় হামলা ২১ বছরে হয়নি।” নিহতদের পরিবারের কাছে তাঁর ক্ষমা চাওয়ার মুখ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি জানি না নিহতদের পরিবারের কাছে কী ভাবে দুঃখপ্রকাশ করব। আমার এখানে তাঁরা এসেছিলেন, আমার দায়িত্ব ছিল পর্যটকদের সাবধানে বাড়ি পাঠানোর। আমি তা করতে পারিনি।”
#PahalgamTerrorAttack | J&K CM Omar Abdullah says, “I will not use this moment to demand statehood. After Pahalgam, with what face can I ask for statehood for Jammu and Kashmir? Meri kya itni sasti siyasat hai? We have talked about statehood in the past and will do so in the… pic.twitter.com/kZqXSRxLmY
— ANI (@ANI) April 28, 2025
এই ভয়াবহ ঘটনার পরে এখন রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তিনি করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন। ওমর আবদুল্লার আক্ষেপ, পহেলগামের হামলার পরে কোন মুখে জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য রাজ্যের মর্যাদা চাইবেন তিনি? ২৬ জন নিরীহ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে তিনি কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলতে পারবেন না বলেও ইঙ্গিত দেন।
ওমর আবদুল্লাহর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, তিনি নিজেকে এই হামলার জন্য একরকম দায়ী মনে করছেন এবং এই ভয়াবহ ঘটনার পর কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। হামলার ফলে কাশ্মীরের পর্যটন খাতেও বিরাট প্রভাব পড়েছে, যা স্থানীয়দের জন্য একটি বড় সঙ্কট সৃষ্টি করেছে এবং এই পরিস্থিতি রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর রাজনৈতিক দাবির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে তাঁর বক্তব্যে পরিলক্ষিত হয়েছে।