“পাকিস্তান যুদ্ধের জন্য তৈরি…”-সিন্ধু জলচুক্তি বাতিলের পাল্টা হুমকি পাকিস্তানের, শুরু হতে পারে লড়াই?

জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারত জুড়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই ঘটনায় ২৬ জন নিরীহ প্রাণের বিনিময়ে উপযুক্ত বদলা নেওয়ার ডাক দিয়েছে দিল্লি। সেই আবহে ভারত সরকার সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে, যা পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছেন, “ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করতে পারবে না, কারণ এর গ্যারান্টর বিশ্বব্যাংক।” একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি ভারত কোনও চুক্তি লঙ্ঘন করে, তাহলে পাকিস্তান যুদ্ধের জন্য তৈরি।”
পাহালগাম হামলা: নতুন করে জেগে ওঠা ক্ষোভ
২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পাহালগাঁওতে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন নিরীহ পর্যটক। গুরুতর আহত হন আরও ১৭ জন। জানা গিয়েছে, হামলাকারীরা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিরীহ মানুষদের নিশানা করেছিল। এই নির্মম ঘটনায় ভারত তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং বদলা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তারই অংশ হিসেবে সিন্ধু জলচুক্তি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে খবরে প্রকাশ।
সিন্ধু জলচুক্তি বিতর্কের পেছনের কারণ কী?
সিন্ধু জলচুক্তি বিতর্কের পেছনের কারণ হলো ১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে শুরু হওয়া জলবণ্টন সমস্যা। দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল ঐতিহাসিক সিন্ধু জলচুক্তি। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় এই চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু নদী এবং তার ৫টি উপনদীর (শতদ্রু, বিয়াস, রাভি, ঝিলাম ও চেনাব) জলবণ্টনের নিয়ম নির্ধারিত হয়। এতদিন ধরে টিকে থাকা এই চুক্তি বর্তমানে প্রশ্নের মুখে, কারণ জম্মু-কাশ্মীরের পাহালগাঁওয়ে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলায় ভারতীয় জনমনে ক্ষোভের আগুন নতুন করে জ্বলে উঠেছে।
পাকিস্তানের আতঙ্ক ও বিশ্বব্যাংকের আশ্রয়
ভারতের কড়া অবস্থানের পর পাকিস্তান চরম চাপে রয়েছে। তারা বিশ্বব্যাংকের গ্যারান্টির দোহাই দিয়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছে এবং একইসঙ্গে যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে। এর আগেও পাকিস্তান সিন্ধু জল ইস্যুতে এমন হুমকি দিয়েছে। বিলাওয়াল ভুট্টো প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন (খবরে উল্লিখিত), “সিন্ধু নদী ছিল, আছে এবং থাকবে পাকিস্তানের। আমাদের জল নিয়ে কেউ টানাটানি করলে, সেই নদী রক্তে লাল হবে।”
ভারতের বার্তা স্পষ্ট— আর কোনো রকম সন্ত্রাস মেনে নেওয়া হবে না। প্রত্যেক হামলার উপযুক্ত জবাব এবার দেওয়া হবে, এবং সিন্ধু জলচুক্তি ইস্যুতে ভারতের কঠোর অবস্থান সেই বার্তারই প্রতিফলন।