‘গলা কেটে নেব’, ভারতীয়দের হুমকি পাক সেনাকর্তার, ভিডিও ঘিরে তুমুল বিতর্ক

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নিরীহ পর্যটকদের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার লন্ডনে পাকিস্তান হাই কমিশনের সামনে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন সেখানকার প্রবাসী ভারতীয়রা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নাকি সহ্য করতে পারেননি পাকিস্তান হাইকমিশনের এক আধিকারিক। উল্টে তিনি বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্যেই ‘গলা কেটে নেওয়ার’ মতো ভয়ঙ্কর হুমকি দিয়েছেন। বিতর্কিত সেই মুহূর্তটি ইতিমধ্যেই ভিডিওতে ধরা পড়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ভিডিওটিতে যে ব্যক্তিকে এমন আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গী করতে দেখা গেছে, সেনা সূত্রে খবর, তিনি হলেন কর্নেল তৈমুর রাহত। বর্তমানে তিনি লন্ডনে পাকিস্তান হাই কমিশনের সেনা ও বায়ুসেনা উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত। তাঁর এই ধরনের আচরণ এবং মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া বর্বরোচিত জঙ্গি হামলার প্রতিবাদ জানাতে শুক্রবার লন্ডনের পাকিস্তান হাই কমিশনের সামনে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। সূত্র অনুযায়ী, বিক্ষোভে মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রবাসী ভারতীয়রা অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের হাতে ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা এবং পাকিস্তান বিরোধী নানা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড। পাকিস্তান বিরোধী স্লোগানও শোনা যায় তাদের মুখে। পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের মদত থাকার যে অভিযোগ উঠেছে, সেই নিয়েই এই প্রতিবাদ চলছিল।

বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মীদের আচরণ নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, যখন তারা বাইরে শান্তিপূর্ণভাবে ন্যায়বিচার ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন, তখন হাইকমিশনের ভেতরে তারস্বরে গান বাজানো হচ্ছিল এবং কর্মীরা নাকি উল্লাস করছিলেন। বিক্ষোভকারীরা এটিকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন যে, ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ চলাকালীন হাইকমিশনের কর্মীদের এমন আচরণ তাদের দুঃখ ও ক্ষতে আরও বেশি করে অবমাননা যোগ করেছে। তারা মনে করেন, এই আচরণ পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মীদের সহানুভূতি এবং মানবিক শিষ্টাচারের চরম অভাবকেই তুলে ধরে। এই অসংবেদনশীল আচরণের তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

উল্লেখ্য, শুক্রবারের এই বিক্ষোভে ভারতীয়দের পাশাপাশি ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রায় ৫০০ জন প্রতিবাদী মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, পাকিস্তান আসলে সন্ত্রাসবাদে মদত জুগিয়ে চলেছে এবং এই লড়াইয়ে ইহুদি সম্প্রদায়ও ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। বিতর্কিত ভিডিওটি সামনে আসার পর পাকিস্তান হাই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।