পহেলগাঁও গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড! কে এই আদিল? পাকিস্তান যোগের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে

গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় নিরপরাধ পর্যটকদের ওপর যে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়েছে, তা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছে। এই নৃশংস হামলায় অন্তত ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য, যা এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারীর দিকে আঙুল তুলেছে এবং তার পাকিস্তান যোগের ইঙ্গিত দিয়েছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, এই হামলার নেপথ্যে যিনি মূল পাণ্ডা ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে, তিনি হলেন অনন্তনাগ জেলার বাসিন্দা আদিল হুসেন ঠোকার। গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আদিল এই হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিল এবং পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈবার দুই কমান্ডার সাইফুল্লাহ কাসুরি এবং আবু মুসার সহায়তায় সে এই হামলার ছক কষেছিল।
নিউজ ১৮-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদিলের পারিবারিক বা সামাজিক প্রেক্ষাপট প্রাথমিকভাবে আর পাঁচজন সাধারণ যুবকের মতোই ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তার মধ্যে মৌলবাদের প্রতি ঝোঁক বাড়তে শুরু করে। ২০১৮ সালে তিনি বৈধ ভ্রমণ নথি নিয়েই পাকিস্তান যান। পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর তিনি নিখোঁজ হয়ে যান এবং এরপরই খবর আসে তার জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার। প্রায় ছয় বছর পাকিস্তানে থাকার পর, ২০২৪ সালে আদিল ফের সক্রিয় হয়ে সামনে আসে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সে সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। প্রথমে তাকে রাজৌরি-পুঞ্চ এবং তারপর ডোডা ও কিশতওয়ারের মতো এলাকায় দেখা যায়।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলি মনে করছে, হামলার ঠিক আগেই আদিলকে কাশ্মীরে এবং বিশেষ করে বৈসরন উপত্যকার ওই নির্দিষ্ট এলাকায় দেখা গিয়েছিল। সে এখন হিজবুল মুজাহিদিন ও লস্করের ছায়াসংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্ট ফ্রন্ট (টিআরএফ)-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানা গেছে। হামলায় প্রায় চার থেকে পাঁচজন সন্ত্রাসবাদী জড়িত ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে, যাদের মধ্যে একজন স্থানীয় জঙ্গি হলো এই আদিল। হামলাকারীদের হাতে ছিল আমেরিকান এম-৪ এবং একে ৪৭/৫৬-এর মতো অত্যাধুনিক রাইফেল। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী আদিলকে নিজে হাতে গুলি চালাতে দেখেছেন বলে দাবি করেছেন। হামলার পর জঙ্গিরা সেনাবাহিনীর পোশাক পরে পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। টিআরএফ যদিও পরে হামলার দায় অস্বীকার করেছে, তবে তাদের প্রাথমিক দায় স্বীকার এবং আদিলের মতো স্থানীয় জঙ্গির জড়িত থাকার অনুমান অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
হামলার পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনী আদিল ও তার সহযোগীদের ব্যাপক অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তদন্তে এ পর্যন্ত ১৯ জন ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কারকে (OGW) চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা এই হামলায় জঙ্গিদের সহায়তা করেছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এঁরা সকলেই অনন্তনাগ জেলার বাসিন্দা। তল্লাশি অভিযানের সময় জঙ্গিদের ব্যবহৃত কিছু বাড়িতে বিস্ফোরক পাওয়া যায়, যা ফেটে গিয়ে বাড়িগুলি ধ্বংস করে দেয়। সেনা জানিয়েছে, তাদের মূল উদ্দেশ্য বাড়ি ধ্বংস করা নয়, বরং জঙ্গিদের জীবিত বা মৃত গ্রেফতার করা।
উল্লেখ্য, এই নৃশংস হামলার পর কেন্দ্রীয় সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি সহ একাধিক বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকেন, যেখানে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিল উপস্থিত ছিলেন। আদিলের এই ব্যাকগ্রাউন্ড এবং পাকিস্তান থেকে ফিরে এসে এমন ভয়াবহ হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার ঘটনায় উপত্যকায় জঙ্গিদের কার্যপদ্ধতি এবং পাকিস্তানের ভূমিকা সম্পর্কে নতুন তথ্য উঠে আসছে। নিরাপত্তা বাহিনী এখন আদিল ও তার নেটওয়ার্কের খোঁজে মরিয়া।