জরুরি সতর্কতা ! বাচ্চাকে সর্দির এই ওষুধ দেন? হতে পারে ভয়ঙ্কর ক্ষতি, অভিভাবকরা জেনেনিন কী করবেন

বাচ্চাদের সর্দি-কাশির চিকিৎসায় অনেক বাবা-মা হয়তো ভরসা রাখেন এমন কিছু নির্দিষ্ট কাশির সিরাপের উপর, যা হাতের কাছে সহজে মেলে। সর্দি, কাশি, বা অ্যালার্জির মতো সমস্যায় চটজলদি সমাধানের জন্য এই ওষুধগুলি বহুল প্রচলিত। কিন্তু কেন্দ্র সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের গুণমান যাচাইয়ের পরীক্ষায় উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য: এই প্রচলিত ওষুধগুলির কিছু ৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের ব্যবহারের জন্য আদৌ নিরাপদ নয়। এর জেরে, এই ধরনের নির্দিষ্ট কম্পোজিশনের কাশির সিরাপগুলি ৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, এই ওষুধগুলিতে দুটি নির্দিষ্ট উপাদান বিদ্যমান – ক্লোরফেনিরামিন ম্যালিয়েট (Chlorpheniramine Maleate) এবং ফেনাইলেফ্রিন হাইড্রোক্লোরাইড (Phenylephrine Hydrochloride)। এই দুটি উপাদান সাধারণত অ্যালার্জি এবং সর্দি-কাশির উপসর্গের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তবে ৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই উপাদানগুলির প্রভাব বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত পর্যাপ্ত তথ্য বা গবেষণা উপলব্ধ নেই। তাই ছোট শিশুদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই কেন্দ্র সরকার এই ওষুধগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
গত ১৫ এপ্রিল জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে, ৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য এই নির্দিষ্ট কম্পোজিশনের ওষুধগুলির উৎপাদন, বিক্রয় এবং বিতরণে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কেন্দ্র সরকার উৎপাদনকারীদের নির্দেশ দিয়েছে যে, তারা যদি এই উপাদান সহ কাশির সিরাপ তৈরি করে, তবে তার লেবেলে এবং প্যাকেজিংয়ে স্পষ্টভাবে সতর্কবার্তা দিতে হবে যে, এই ওষুধটি ৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত নয়।
এই সরকারি বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে গ্লেনমার্ক এবং জুভেন্টাস হেলথকেয়ারের মতো কয়েকটি ওষুধ কোম্পানি দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিল। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, ১৫ এপ্রিলের আগে উৎপাদিত ওষুধের স্টকের উপর এই নিষেধাজ্ঞা আপাতত প্রযোজ্য হবে না। তবে আদালত একটি অত্যন্ত জরুরি শর্ত আরোপ করেছে: সকল উৎপাদনকারীকে ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট এবং সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে অবহিত করার জন্য বড় সংবাদপত্রে জনসাধারণের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে নোটিশ প্রকাশ করতে হবে। এর উদ্দেশ্য হলো যাতে কোনোভাবেই অসাবধানতাবশত ৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের এই ওষুধগুলি ব্যবহার করা না হয়।
বাচ্চাদের সর্দি-কাশির মতো সাধারণ অসুস্থতাতেও ওষুধের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। সরকারের এই নির্দেশিকার পরিপ্রেক্ষিতে অভিভাবকদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস নিচে দেওয়া হলো:
চিকিৎসকের পরামর্শ আবশ্যিক: ৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের যে কোনও ধরনের কাশির সিরাপ বা সর্দি-কাশির ওষুধ দেওয়ার আগে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে নিজে কোনো ওষুধ কিনে খাওয়াবেন না।
পুরোনো সিরাপ পরীক্ষা করুন: আপনার বাড়িতে যদি আগে থেকেই এই নিষিদ্ধ কম্পোজিশনের (ক্লোরফেনিরামিন ম্যালিয়েট এবং ফেনাইলেফ্রিন হাইড্রোক্লোরাইড যুক্ত) কোনও কাশির সিরাপ থাকে, তাহলে তার লেবেল ভালো করে পরীক্ষা করুন। যদি সেটি ৪ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য নির্ধারিত থাকে বা আপনার সন্দেহ থাকে, তাহলে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন এবং প্রয়োজনে সেটি বাতিল করে দিন।
বিকল্প ও ঘরোয়া প্রতিকার: শিশুদের সর্দি-কাশির উপসর্গের জন্য শুধুমাত্র চিকিৎসকের প্রেসক্রাইব করা বিকল্প ওষুধ ব্যবহার করুন। এছাড়া, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কিছু নিরাপদ ঘরোয়া প্রতিকারও অবলম্বন করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগেও কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ (CDSCO) দেশজুড়ে গুণমান যাচাইয়ের পরীক্ষায় ফেল করা আরও ১০৪টি ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, ইঞ্জেকশন এবং স্যালাইনকে ‘নট অফ স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটি’ (NSQ) হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এই তালিকায় বাজার চলতি নামী সংস্থার নামী ব্র্যান্ডের কিছু ওষুধও ছিল। এর মধ্যে এ রাজ্যের ল্যাবেও ২৮টি ওষুধ এই পরীক্ষায় ফেল করেছিল (কলকাতার সেন্ট্রাল ড্রাগ ল্যাবে ২৭টি এবং রাজ্য ড্রাগ ল্যাবে ১টি)। তাই শিশুদের ওষুধের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের এবং চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারের এই নির্দেশিকা শিশুদের সুরক্ষার জন্যই নেওয়া হয়েছে, তাই তা মেনে চলা সকলের দায়িত্ব।