‘”১০০ শতাংশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করা উচিত”-পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার কড়া নিন্দা সৌরভের

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে বর্বরোচিত জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মর্মান্তিক প্রাণহানির পর গোটা দেশে শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদীদের মদত দেওয়ার অভিযোগে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। এবার এই বিষয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটাররাও। টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক এবং বিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সমস্ত সম্পর্ক শেষ করা উচিত।

সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌরভ গাঙ্গুলি পহেলগাঁও হামলার তীব্র নিন্দা করে বলেন, ‘১০০ শতাংশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করা উচিত। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এটা কোনো রসিকতা নয়। এটা প্রতি বছরই ঘটে। সন্ত্রাসবাদ কোনোভাবেই সহ্য করা যাবে না।’ তাঁর এই মন্তব্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়ার অভিযোগে তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করেন।

পহেলগাঁওয়ের এই হামলাকে প্রায় দু’দশকের মধ্যে কাশ্মীরে অন্যতম ভয়াবহ আক্রমণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর সমগ্র দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। সন্ত্রাসবাদীদের ধরতে নিরাপত্তা বাহিনী উপত্যকা জুড়ে ক্রমাগত অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারও অ্যাকশন মোডে রয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশ (পাকিস্তান) এর বিরুদ্ধে কিছু বড় পদক্ষেপ নিয়েছে।

পহেলগাঁও হামলার পর সমগ্র ক্রিকেট বিশ্বও শোকাহত। ২২ এপ্রিলের এই হামলার পর ২৩ এপ্রিল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (SRH) এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (MI) এর মধ্যে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL) ২০২৫ এর ম্যাচ চলাকালীন উভয় দলই হামলায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করে। শহিদদের এবং নিহতদের প্রতি সম্মানের নিদর্শন হিসেবে ম্যাচ চলাকালীন খেলোয়াড় এবং আম্পায়াররা কালো ব্যান্ড পরেছিলেন।

পহেলগাঁও হামলার পর ভারত সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে ‘অ্যাকশন মোডে’ চলে আসে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ আটারি সীমান্ত চেকপোস্ট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়াও, সরকার পাকিস্তানে ভারতীয় দূতাবাস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবরে প্রকাশ। শুধু তাই নয়, সিন্ধু জল চুক্তিও স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। আরও একটি কড়া পদক্ষেপ হিসেবে খবর এসেছে যে, ভারত সরকার নাকি আর পাকিস্তানিদের ভিসা দেবে না।

সৌরভ গাঙ্গুলির মতো একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার এই দাবি পহেলগাঁও হামলার প্রেক্ষিতে ভারতের জনগণের মনোভাবকেই প্রতিফলিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই হামলার পর ভারত-পাক সম্পর্ক এক নজিরবিহীন কঠিন পরিস্থিতির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।