গ্যালারিতে ‘গ্লোয়িং’ কাব্যা মারান, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মালকিন কাব্যার গ্লো-এর রহস্য ফাঁস!

বাংলায় একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ আছে – ‘রূপে লক্ষ্মী গুণে সরস্বতী’। এই প্রবাদটি সাধারণত সেই নারীকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়, যিনি যেমন সুন্দর, তেমনই বুদ্ধিমান বা প্রতিভাবান। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মালকিন কাব্যা মারানকে এই প্রবাদটির এক আধুনিক উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। আইপিএলের মরশুমে অরেঞ্জ আর্মির প্রতিটি ম্যাচে গ্যালারিতে তাঁর উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি সকলের নজর কাড়ে। তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে অনেকেই তাঁকে ‘ক্রাশ’ হিসেবে দেখে থাকেন। আইপিএলের খেলোয়াড় নিলামের সময় থেকে শুরু করে টুর্নামেন্ট চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে কাব্যা মারান থাকেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দলের জয়-পরাজয়, ম্যাচের চরম উত্তেজনা বা উদ্বেগ—কোনোকিছুই যেন তাঁর মুখের উজ্জ্বলতা বা ‘গ্লো’ ম্লান করতে পারে না। এতকিছুর মাঝেও কাব্যার এই নিখুঁত ত্বকের রহস্য কী?

আইপিএলের জগত মানেই ক্রিকেটীয় উত্তেজনার সাথে বিনোদন ও গ্ল্যামারের এক অসাধারণ মিশ্রণ। ২২ গজে ক্রিকেটাররা তাঁদের পারফরম্যান্স দিয়ে যেমন দর্শকদের মনোরঞ্জন করেন, তেমনই গ্যালারিতে উপস্থিত বিভিন্ন তারকা ও মালকিনদের ঝলমলে উপস্থিতি সেই গ্ল্যামার আরও বাড়িয়ে তোলে। সান নেটওয়ার্কের কর্ণধার কলানিথি মারানের কন্যা কাব্যা গ্যালারিতে সেই গ্ল্যামারের ছটা ছড়িয়ে দেন। হায়দরাবাদের ক্রিকেটাররা ভালো খেললে গ্যালারিতে তাঁকে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়তে দেখা যায়, আবার দল খারাপ খেললে বা হারলে তিনি মুষড়ে পড়েন। কখনও মাঠের পাশে তো কখনও ড্রেসিংরুমে গিয়ে তিনি দলের ক্রিকেটারদের উজ্জীবিত করেন। এত আনন্দ, উত্তেজনা, উদ্বেগ, চিন্তা – সবকিছুর মধ্যেও কাব্যা কীভাবে তাঁর ত্বককে এত সতেজ এবং উজ্জ্বল রাখেন? এবার সামনে এল তাঁর সেই বিউটি সিক্রেট!

জানা গেছে, আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে কাব্যা তাঁর ত্বককে আরও সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর করে তুলেছেন। তিনি ‘দ্য গ্লো ক্লিনিক’-এর দ্বারস্থ হয়েছেন এবং সেখানে ডক্টর বার্ষিণী রেড্ডির কাছ থেকে ব্যক্তিগত পরামর্শ ও কাস্টমাইজড থেরাপি নিয়েছেন। ডক্টর বার্ষিণী রেড্ডি দুবাই থেকে ডাবলিন পর্যন্ত তাঁর দক্ষতার জন্য সুপরিচিত। তাঁর পরামর্শ এবং চিকিৎসায় কাব্যা তাঁর ত্বককে আরও উজ্জ্বল ও সতেজ করে তুলেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেকেই হয়তো নিজেদের ত্বকের স্বাস্থ্য বা নিয়মিত পরিচর্যার কথা সেভাবে ভাবেন না, যা ত্বকের সমস্যার অন্যতম কারণ। কিন্তু কাব্যা এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। ত্বকের যত্ন নেওয়া তাঁর দৈনিক রুটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর দিন শুরু হয় একটি ভালো মানের বোটানিক্যাল ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করার মাধ্যমে। এরপর তিনি ব্রাইটেনিং ভিটামিন সি এবং এসপিএফ ৫০+ যুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেন। দিনের মাঝামাঝি সময়ে ত্বককে সতেজ রাখতে তিনি মিস্ট ব্যবহার করেন, যা হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ এবং ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। সন্ধেবেলা তিনি ত্বককে হালকা এক্সফোলিয়েশন করেন এবং এরপর কোলাজেন বুস্টিং সিরাম ব্যবহার করেন। তাঁর নাইট স্কিনকেয়ার রুটিনে থাকে সেরামাইড যুক্ত একটি ভালো নাইট ক্রিম। বাহ্যিক পরিচর্যার পাশাপাশি শারীরিক স্বাস্থ্যের দিকেও তিনি সমানভাবে নজর রাখেন। প্রতিদিন তিনি প্রায় ২.৫ লিটার জল পান করেন এবং ওয়ার্কআউটের পর ডাবের জল পান করা তাঁর অভ্যাস। এছাড়াও তিনি সঠিক ডায়েট মেনে চলেন এবং পর্যাপ্ত ঘুম তাঁর রুটিনের একটি অপরিহার্য অংশ, যা ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।

উল্লেখ্য, শুধুমাত্র কাব্যা মারানই নন, একাধিক পরিচিত তারকা এবং ক্রিকেটারও নিজেদের ত্বককে সুস্থ এবং নজরকাড়া রাখার জন্য ডক্টর বার্ষিণীর ‘দ্য গ্লো ক্লিনিক’-এর সাহায্য নিয়েছেন। ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ সিরাজ, ওয়াশিংটন সুন্দর, বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন এবং দক্ষিণ ভারতীয় সুপারস্টার সামান্থা রুথ প্রভুও এই ক্লিনিকের ক্লায়েন্টদের তালিকায় রয়েছেন।

কাব্যা তাঁর দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের পাশে সবসময় থাকেন। গ্যালারিতে তাঁর উপস্থিতি এবং তাঁর সৌন্দর্য নিঃসন্দেহে একটি আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। যে নারীর মধ্যে রূপ এবং গুণের এমন অসাধারণ সমন্বয় দেখা যায়, তাঁকে ‘রূপে লক্ষ্মী ও গুণে সরস্বতী’ বলাই যায়। আর এই প্রবাদটি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মালকিন কাব্যা মারানের জন্য অত্যন্ত মানানসই।