“সিন্ধুর জল বন্ধ হলে মোদির শ্বাস বন্ধ করব”-জঙ্গি নেতা হাফিজ সইদের পুরনো ভিডিও ভাইরাল

কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন পর্যটকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ভারত কর্তৃক সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পরেই পাকিস্তান পুরনো হুমকির পথে হাঁটতে শুরু করেছে। হাফিজ সইদ, লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা, যিনি মুম্বাই ২৬/১১ হামলার মূলচক্রী হিসেবে পরিচিত, তার প্রায় দুই থেকে তিন বছর আগের একটি ভিডিও নতুন করে ভাইরাল করা হচ্ছে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে। এই ভিডিওতে হাফিজ সইদকে বলতে শোনা যাচ্ছে যে, ভারত যদি সিন্ধুর জল বন্ধ করে দেয়, তাহলে তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘শ্বাস বন্ধ করে দেবেন’।

ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি মনে করছে যে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করার ভারতের সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের পায়ের নিচে মাটি সরে গেছে। তারা এই সিদ্ধান্তের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে খুব ভালো করেই অবগত। পাকিস্তানের কৃষি এবং অর্থনীতিতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি সামরিক বা কূটনৈতিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার মতো অবস্থায় না থাকায় তারা ভারতকে হুমকি দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। আর এই হুমকির অংশ হিসেবেই হাফিজ সইদের এই পুরনো ভিডিওটি ভাইরাল করে দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ পর্যটক নিহত হন এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দারও মৃত্যু হয়। নিহতদের পরিজনদের দাবি, জঙ্গিরা তাদের হিন্দু পরিচয় নিশ্চিত করার পরেই গুলি চালিয়েছিল। এই ঘটনা সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্রুত নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠক করেন এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেন।

এই পদক্ষেপগুলির মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৬৫ সালের পুরনো সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে দেওয়া। এর ফলে পাকিস্তানের কৃষি ক্ষেত্র নিশ্চিতভাবে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এছাড়াও ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়াঘা আটারি সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া, সমস্ত পাকিস্তানি নাগরিকদের দ্রুত ভারতবর্ষ ছেড়ে চলে যেতে বলা, দিল্লিতে পাকিস্তানি দূতাবাস বন্ধ করা এবং মেডিকেল ভিসা সহ পাকিস্তানিদের সমস্ত প্রকার ভিসা দেওয়া বন্ধ করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

ভারতের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করাকে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে অভিহিত করা হয়েছে। তারাও পাল্টা হিসেবে ভারতের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ করা এবং সিমলা চুক্তি রদ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে শাহবাজ শরীফের সরকার এই বিষয়টি নিয়ে আইনি, রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক স্তরে মোকাবিলার কথাও জানিয়েছে।

তবে সব মিলিয়ে পহেলগাঁও হামলা এবং তার পরবর্তী ঘটনাবলী যেভাবে দ্রুত মোড় নিয়েছে এবং ভারত যে কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে, তাতে পাকিস্তান যে যথেষ্ট চাপের মুখে পড়ে গিয়েছে তা ক্রমশ পরিষ্কার হচ্ছে। পুরনো হুমকির ভিডিও ভাইরাল করাকে সেই চাপের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।