OMG! নকল বৃহন্নলা সেজে প্রতারণা, মার খেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি পড়লেন ‘আসলদের’ হাতে

বৃহন্নলা সেজে নিঃসন্তান দম্পতিদের সন্তান পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দিল স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে ইংরেজবাজার থানার কোতোয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের তারাকালি মোড় এলাকায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই এলাকায় এক ব্যক্তি বৃহন্নলা সেজে বাড়ি বাড়ি ঘুরছিলেন এবং নিঃসন্তান দম্পতিদের সন্তান লাভের জন্য মন্ত্রপূত ওষুধ ও তাবিজ উচ্চ দামে বিক্রি করে প্রতারণা করছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে বিকাশ দাস নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ওই নকল বৃহন্নলা প্রবেশ করেন। পরিবারের সদস্যদের ভুল বুঝিয়ে তিনি ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি বুঝতে পেরে বিকাশের স্ত্রী প্রিয়া চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তবে ততক্ষণে ওই ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এরপর ওই ব্যক্তি বুড়া ঘোষ নামে আরেকজনের বাড়িতে ঢোকেন। সেখানেও নিঃসন্তান দম্পতিকে সন্তান পাইয়ে দেওয়ার জন্য ১৭ হাজার টাকার বিনিময়ে মন্ত্রপূত তাবিজ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরই মধ্যে গ্রামবাসীরা খোঁজ করতে করতে ঘোষ পরিবারের বাড়িতে পৌঁছে নকল বৃহন্নলাকে ধরে ফেলেন।
এরপরই ক্ষিপ্ত জনতা ওই ব্যক্তিকে মারধর শুরু করে। সেখানে উপস্থিত আসল বৃহন্নলাদের একটি দলও গ্রামবাসীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে অভিযুক্তকে চড়-থাপ্পড় মারেন।
তারাকালি মোড় এলাকার বাসিন্দা উৎপল দাস এবং মাধব মণ্ডল জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই এই নকল বৃহন্নলার দৌরাত্ম্য শুরু হয়েছিল এবং তিনি অনেক নিঃসন্তান দম্পতির সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা আদায় করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছিল এবং বৃহস্পতিবার তাকে ধরে ফেলা সম্ভব হয়।
প্রকৃত বৃহন্নলাদের দলের সদস্য মিনা কুমারী বলেন, “লোকটা আমাদের ইউনিটের নয়। মানুষকে এভাবে ভাঁওতাবাজি দেওয়াটা কোনও ভাবে উচিত নয়। এতে আমাদের কাজে প্রভাব পড়বে।” তিনি গ্রামবাসীদের এই কাজকে সাধুবাদ জানান এবং নকল বৃহন্নলাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ায় সঠিক কাজ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
ইংরেজবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তিনি বৃহন্নলা সেজে প্রতারণা করছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এই ঘটনার পিছনে কোনও বড় চক্র জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।