“১১ জন পর্যটকের প্রাণ বাঁচিয়েছেন এই কাশ্মীরি যুবক”-জেনেনিন জঙ্গি হামলা নিয়ে কি বলছেন তিনি?

গত মঙ্গলবার পহেলগাঁওয়ের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় যখন ২৬টি তাজা প্রাণ ঝরে গেল, সেই চরম নৈরাজ্য ও মৃত্যুর মুখ থেকেও ১১ জন পর্যটককে বাঁচিয়ে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কাশ্মীরি গাইড নজাকত আহমেদ শাহ। ছত্তিসগঢ় থেকে আসা এই পর্যটকদের মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে এনে নিরাপদে শ্রীনগরে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। প্রাণ বাঁচানো পর্যটকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও ছিল।

নজাকত আহমেদ শাহ এক সংবাদমাধ্যমকে গোটা ঘটনার ভয়াবহ বিবরণ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, হামলার দিন দুপুরে পর্যটকদের নিয়ে তিনি পহেলগাঁওয়ের বাইসরন উপত্যকায় ছিলেন। পর্যটকরা ঘোড়ায় চড়া এবং ছবি তোলায় ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎই গুলির শব্দ শোনা যায়। প্রথমে বাজি ফাটছে মনে হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই ভুল ভাঙে এবং চারদিকে পর্যটকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায়।

নজাকত জানান, সেই মুহূর্তে তার প্রথম চিন্তা ছিল পর্যটকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে শিশুদের বাঁচানো। তিনি দ্রুত কয়েকজন শিশুকে কোলে তুলে শুয়ে পড়েন। এলাকাটি বেড়া দিয়ে ঘেরা থাকায় পালানো কঠিন ছিল। কিন্তু একটি ছোট ফাঁক দেখে তিনি শিশুদের নিয়ে সেদিক দিয়ে বেরিয়ে নিরাপদে একটি জায়গায় পৌঁছন। এরপর তিনি আবার ফিরে এসে বাকি পর্যটকদের উদ্ধার করে নিরাপদে পহেলগাঁও শহরে নিয়ে আসেন। আল্লার রহমতে তিনি ১১ জন পর্যটককেই সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

নজাকত আহমেদ শাহ জানান, ছত্তিসগঢ়ের এই পর্যটকদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন। শীতকালে তিনি ছত্তিসগঢ়ের চিরমির শহরে শাল বিক্রি করতে যেতেন এবং তখন থেকেই তাদের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। পহেলগাঁও ছিল তাদের কাশ্মীর ভ্রমণের শেষ পর্যায়। তিনি তাদের কাশ্মীরি আতিথেয়তা দেখাতে চেয়েছিলেন।

এই ভয়াবহ হামলায় নজাকতের মামাতো ভাই আদিল হুসেনও প্রাণ হারিয়েছেন। হামলার সময় পর্যটকদের বাঁচানোর চেষ্টা করার সময়ই তিনি সন্ত্রাসবাদীদের গুলিতে নিহত হন। নিজের চরম ব্যক্তিগত ক্ষতি সত্ত্বেও নজাকত আহমেদ শাহ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পর্যটকদের বাঁচানোর যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা কুর্নিশ জানানোর মতো। তার এই বীরত্বপূর্ণ কাজ আরও বড় প্রাণহানি রুখে দিয়েছে এবং এই কঠিন সময়ে মানবতার এক উজ্জ্বল আলো দেখিয়েছে। পর্যটকরা নজাকতের প্রতি তাদের অসীম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।