ভারতের চাপে নড়েচড়ে বসল পাকিস্তান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈঠকে বসছে পাক-সরকার !

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় বহু পর্যটকের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে। রক্তাক্ত উপত্যকার এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভারতের দেওয়া একের পর এক কড়া ধাক্কার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছে পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব।

গতকাল বুধবার, পহেলগাঁও হামলার পরপরই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির (CCS) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ভারত সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারতের নেওয়া উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে:

১. সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত: সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ না করা পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হচ্ছে।
২. আটারি সীমান্ত বন্ধ: আটারি সীমান্ত পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পূর্বে এই পথ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করা পাকিস্তানি নাগরিকদের আগামী ১লা মে’র মধ্যে দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩. পাকিস্তানিদের ভিসা বাতিল ও ফেরত: পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য সার্ক (SAARC) ভিসা বাতিল করা হয়েছে। যারা এসপিইএস (SPES) ভিসার অধীনে ভারতে রয়েছেন, তাদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৪. সামরিক কূটনীতিক বহিষ্কার: নয়াদিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তানি হাইকমিশনের সামরিক, নৌ ও বিমান উপদেষ্টাদের ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁদের এক সপ্তাহের মধ্যে ভারত ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।
৫. ভারতীয় সামরিক উপদেষ্টাদের প্রত্যাহার: একইভাবে, ইসলামাবাদে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন থেকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা, নৌ এবং বিমান উপদেষ্টাদের ফিরিয়ে নেবে ভারত সরকার।
৬. হাইকমিশনে কর্মীসংখ্যা হ্রাস: দু’দেশের হাইকমিশনে কর্মরত আধিকারিকদের সংখ্যা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০ জন করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে আরও জানা যায়, পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (আগের টুইটার) অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেও ভারত সরকার একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যদিও তার বিস্তারিত বিবরণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

ভারতের এই পরপর কঠোর পদক্ষেপের পরেই পাকিস্তানের উপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ভারতের নেওয়া পাঁচ দফা পদক্ষেপের জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে আজই উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক বসবে। সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী স্বয়ং এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন বলে জানা গেছে। পহেলগাঁওয়ের হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ককে এক নতুন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।